রিপোর্ট : নিজস্ব প্রতিবেদক :
অতি বৃষ্টি ও বন্যার জেরে গেল কয়েক মাষ ধরেই কাঁচাবাজার ও নিত্যপণ্যের দাম চড়া। প্রয়েজনীয় এসব পণ্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সরকারি উদ্যোগ কোনো কাজে আসছে না কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের কারণে । ফলে বাজারে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠেছে সীমিত আয়ের মানুষের। নিত্যপণ্যের বাড়তি খরচের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। ফলে পছন্দমত পন্য না কিনেই ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন বেশিরভাগ ক্রেতারা।
কিছু বাজারে ডিমের দাম ডজনে ১০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। তবে বেশিরভাগ বাজারে বা দোকানে আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। সবজির দাম আগের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে। বাজারে খোলা ও মোড়কজাত আটা এবং ময়দার দাম আগের তুলনায় বেড়েছে। ঊর্ধ্বমূখি ব্রয়লার মুরগি ও মাছের দাম। এছাড়া খুচরা বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট এখনো কাটেনি। আধা লিটার ও এক লিটারের তেলের বোতল দোকানে নেই বললেই চলে।
সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বিক্রেতারা জানিয়েছেন, আটা ও ময়দার দাম পাইকারিতে বাড়ায় খুচরা বিক্রেতারাও দাম বাড়িয়েছেন। এ ছাড়া গত পাঁচ-ছয় মাসের মধ্যে বন্যা, অতিবৃষ্টি ও গরমে অনেক খামারে ডিম পাড়া ও ব্রয়লার মুরগির সংখ্যা কমেছে। ফলে উৎপাদন কমা ও চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় মুরগির দাম বাড়তি।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম ১০ টাকা কমে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এক ডজনের দাম ছিল ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা। ব্রয়লার মুরগির গত সপ্তাহের মতো আজকে ১৯০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। সোনালি, হাইব্রিড ও লেয়ার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা কমেছে। সোনালি মুরগি ৩১০ থেকে ৩২০ টাকা, হাইব্রিড ২৯০ থেকে ৩০০ এবং লেয়ার ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
তবে বাজারে সবজির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। ঢ্যাঁড়স ও পটল বিক্রি হচ্ছে বাজারভেদে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। শসা প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। দেশি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে। লম্বা আকারের বেগুণের দামও বেড়েছে। বেগুণ কিনতে হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে। কচুর মুখি ৫৫ থেকে ৭০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া, চিচিংগার দামও খানিকটা চড়া। এগুলো বাজারভেদে ৫০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে, বরবটির দাম বেশি চড়া। পণ্যটি ১০০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। ভালো মানের ঝিঙ্গা ও কাকরোল বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৯০ টাকার মধ্যে। কাচা মরিচের দাম কিছুটা বেড়েছে। প্রতি কেজি কাচা মরিচ বাজারভেদে ১৪০ থেকে ১৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৮০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে।
বাজারে বেশি দামে আটা–ময়দা বিক্রি হতে দেখা গেছে। মুদিদোকানগুলোয় প্রতি কেজি খোলা আটা ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগে আটার কেজি ছিল ৪৫ টাকা। আর বিক্রেতারা প্রতি কেজি খোলা ময়দার দাম রাখছেন ৬৫–৭০ টাকা। মাসখানেক আগে খোলা ময়দার কেজি ছিল ৫৫–৬০ টাকা।
বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোড়কজাত (প্যাকেট) আটা ও ময়দা বিক্রি হয়। বর্তমানে দুই কেজি ওজনের এক প্যাকেট ময়দা ১৬০–১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাতে কেজি পড়ে ৮০–৮৫ টাকা। এক মাস আগে এক কেজি মোড়কজাত ময়দার দাম ছিল ৭০–৭৫ টাকা।
বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট এখনো কাটেনি। দু-এক দোকানে পাওয়া গেলেও সেগুলো শুধু ২ বা ৫ লিটারের বোতল। আধা লিটার ও এক লিটারের তেলের বোতল নেই বললেই চলে। বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়ে এখন প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম হয়েছে ২০৪ টাকা। অর্থাৎ, ২ লিটার তেল কিনতে এখন ক্রেতাকে একসঙ্গে গুনতে হচ্ছে ৪০৮ টাকা এবং পাঁচ লিটার তেলের জন্য ১০২০ টাকা।
এদিকে মাছের বাজারে এখনো স্বস্তি ফেরেনি। এদিন কমলাপুর বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, চাষ করা মাছ পাঙাশ প্রতি কেজি ২৩০ টাকা, তেলাপিয়া ২৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে চিংড়ির কেজি ৮০০ থেকে ৯০০, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪৫০, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ ও ট্যাংরা ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ২৬০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে। মাঝারি আকারের রুই কেনা যাচ্ছে ২৭০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে। এ ছাড়া রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে হাজারের বেশি টাকা গুনতে হবে।