রিপোর্ট : নিজস্ব প্রতিবেদক :
ঐতিহ্যবাহী বাবুরহাট বাজারের শৃঙ্খলা ফেরানোর জন্য মসজিদ রোড থেকে স্কুল মাকের্ট পর্যন্ত যে রাস্তাটি রয়েছে সেই রাস্তাটি দ্রুত প্রশস্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন বাজারের ব্যবসায়ী, স্থানীয় লোকজন ও পথচারীগণ। প্রাচীন আমল থেকেই সপ্তাহে রবি ও বৃহস্পতিবার এই বাজারে হাট বসে, যা এখনো চলমান। একটা সময় ক্রেতা বিক্রেতা এই বাজারে নৌকা দিয়ে মালামাল দূর-দুরান্ত থেকে আনা নেওয়া করত ।

ডাকাতিয়া নদীর পথ ধরে শেখেরহাটের খাল, মতলব থেকে খাল দিয়ে বাণিজ্য করার জন্য শত শত নৌকা এসে বাবুরহাটের খাল ও ডোবা গুলোতে বাঁধা থাকত। বর্তমানে খাল গুলো ভূমিদুস্যুদের দখলের কারণে বাস্তবে পুরোটা দেখা না গেলেও দেখা যায় জমির ম্যাপের মাধ্যমে। বাবুরহাট বাজারের ভিতরের রাস্তাটি দিয়ে একটা সময় চাঁদপুর-লালমাই কুমিল্লা ও সতলবে পরিবহন যাতায়াত করত। সড়কটি সি এস খতিয়ানে ভারত স¤্রাটের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়। পরবর্তীতে ১৯৫১ সালে তা ঢাকা গেজেটে প্রকাশিত হয়। সড়কের বাঁধ সোজাকরণ ও পেমেন্ট প্রশস্ত করনের জন্য এল এ কেইস নং ০৫/১৯৫-১৯৫৭ এর মাধ্যমে স্থায়ীভাবে ভূমি অধিগ্রহণ করে বাবুরহাট-মতলব পেন্নাই সড়ক সম্প্রসারন ও উন্নয়ন করে বাজারের ভিতর থেকে রাস্তাটি সরিয়ে সোজা করা হয়। এরপর থেকেই বাজারের রাস্তাটি এখন পর্যন্ত আর তেমন ভাবে উন্নয়ন করা হয়নি।

যদিও সড়ক ও জনপদ বিভাগের আশিকাটি মৌজায় সি এস-৬৩৫ও৬৩২, ৪নং বি এস খতিয়ান ২১৭ এই সম্পত্তির মধ্যে প্রশাসন চাইলেই যে কোন সময় রাস্তাটি প্রশস্ত করতে পারে। চাঁদপুর জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বাবুরহাট হলো মধ্যবর্তী স্থান। বাবুরহাট থেকে সকল উপজেলায় সহজে যাতায়াত করা যায় বলে সরকারি কর্মযজ্ঞ এখানে দিন দিন ধাবিত হচ্ছে।
বিসিক শিল্প নগরী, জেলা পরিষদ, পুলিশ লাইন, জেলা কারাগার, যুব উন্নয়ন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (অস্থায়ী), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (নির্মাণাধীন), সরকারি শিশু পরিবার উল্লেখযোগ্য। বাবুরহাট হাই স্কুল এবং ড্যাফোডিলের গ্রুপের একাধিক শিক্ষ প্রতিষ্ঠান, একাধিক কিন্ডারগার্টেন ও বিভিন্ন ধর্মীয় শিক্ষ প্রতিষ্ঠানে সয়লাভ বাবুরহাট এখন উপশহর থেকে শহর হওয়ার দৌড়ে। আধুনিক ছোঁয়ায় দিন দিন বাবুরহাটের আশেপাশে উন্নতি হলেও উন্নতি ও সম্প্রসারিত হয়নি বাবুরহাট বাজারের ঐতিহ্যবাহী খাল ও রাস্তাটি।
বর্তমানে বাজারে প্রায় চার হাজারের অধিক দোকানদার থাকা স্বত্তেও প্রতিটি দোকানের সামনে রাস্তা দখল করে দেওয়া হচ্ছে আরেকটি ভ্রাম্যমান দোকান। দখল থেকে বাদ যায়নি ব্রীজও। যার দরুন হাটের দিন গুলোতে একটি রিক্সা নিয়ে বাজারে প্রবেশ করা বহু কষ্ট কর। সম্প্রতি জেলা পরিষদ তাদের সম্পত্তি দাবি করে বাবুরহাট বাজারে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। যদিও ১২৫১ দাগের পশ্চিম অংশে ১০৯১/২০২০ মহামান্য হাইকোর্টের রিট ও নিষেধাজ্ঞা চলমান রয়েছে এবং সি এস ১৯১ নং খতিয়ানে নাল ৬৩৩ দাগে, সি এস ও বি এস ম্যাপ অনুযায়ী খাল ও চলাচলের রাস্তা ৬৩৫ দাগে মহামান্য হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা ও চলমান রয়েছে।
আইনগত জটিলতা এড়াতে উচ্ছেদ পরিচালনার পূর্বে দাগন্বয়ের মধ্যে সরেজমিন সুস্পষ্ট সীমানা নির্ধারণ করা প্রয়োজন হলে জেলা প্রশাসক সীমানা নির্ধারন করে দিয়েছে। ১২৫১ দাগ ও ২১৭ দাগে জেলা প্রশাসক উচ্ছেদের অনুমতি দেয়নি। জেলা পরিষদের এই উচ্ছেদ অভিযানের কারণে বাজারে দেখা দেয় আরো চরম বিশৃঙ্খলা। মসজিদ রোড থেকে স্কুল মার্কেট পর্যন্ত রাস্তাটি ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদারা জীবিকার ত্যাগিদে ভ্রাম্যমান দোকান করে দখল করে রেখেছে। ফলে রাস্তাটি দিয়ে হাঁটাই অনেক কষ্ট কর। তাই এখনোই উপযুক্ত সময় রাস্তাটি সম্প্রসারিত করে এবং ব্যবসায়ীদের সঠিক জায়গায় বসিয়ে বাজারের শৃঙ্খলা ফিরে আনার ছাত্র জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনের নামে শোষন করা স্বৈরাচার আওয়ামী লীগে সরকারের পতন হয়। বর্তমান অন্তর্বতীকালীন সরকারের অধীনে রাষ্ট্রের বিভিন্ন সেক্টরে পরিবর্তনের দেখা দিয়েছে।
তাই এই উন্নয়নের ধারায় বাবুরহাট বাজারের ব্যবসায়ী, পথচারী ও স্থানীয়দের আশা ও বিশ্বাস জেলা পরিষদের সার্ভেয়ারের নেতৃত্বে দ্রুত বাজারে শৃঙ্খলা ফিরবে। খাল সংস্কার ও রাস্তাটি দ্রুত সম্প্রসারিত হবে। মহামান্য হাইকোর্টের ১৫১৭২/২০২৪ সালের রীট আবেদনকরী তাহার সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য মহামান্য হাইকোর্টের রীট পিটিশনের আদেশ পাওয়ার পরও জেলা প্রশাসক ও কর্তৃপক্ষ তা বাস্তবায় না করে বরং চাঁদা খেয়ে অন্য লোককে ঘর তুলে দেন।