রিপোর্ট: শাহাজাহান মিয়া (শাকিল) :
রাজধানীর বনানী এলাকায় আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে আলোচিত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী সুইপার হালিম ও তার স্ত্রী হাফিজা আক্তার রিতু—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে। সম্প্রতি তাকে এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যাওয়ায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রভাবশালী নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিম–এর ছত্রছায়ায় সুইপার হালিমের উত্থান ঘটে। সে সময় বনানী এলাকায় সে গড়ে তোলে একটি শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট এবং নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী। অভিযোগ রয়েছে, এই বাহিনীর মাধ্যমে এলাকায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত সে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২২ ডিসেম্বর রাজধানীর শাহজাহানপুর থানাধীন রেলওয়ে কলোনি এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ তাকে আটক করে পুলিশ।
এছাড়া ২০২২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বনানীতে পুরাতন গাড়ির ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আলিম কার সেন্টার–এর মালিক ও ম্যানেজারের ওপর পূর্বপরিকল্পিত হামলার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা তাদের কাছে থাকা প্রায় ১৮ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
সম্প্রতি কয়েকদিন ধরে তাকে আবারও বনানী এলাকায় দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর স্থানীয় কার্যালয়ের আশপাশে তার ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, “সুইপার হালিমের উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাস ও ডাকাতির মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, অতীতেও তার কর্মকাণ্ডে অনেক নিরীহ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এলাকাবাসীর একাংশ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণেই বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের মানুষও সহিংসতার শিকার হয়েছে। তারা উদাহরণ হিসেবে ইনক্লাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদী এবং মহানগর বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুসাব্বির–এর মৃত্যুর ঘটনাকে স্মরণ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এদিকে এলাকাবাসী দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে বনানী এলাকায় আবারও মাদক ও সন্ত্রাসের বিস্তার ঘটতে না পারে।