রিপোর্ট : নিজস্ব প্রতিবেদক :
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মাসুদ রানার অনিয়ম, দুর্নীতি, জাল, জালীয়াতি করে কোটি কোটি টাকা অবৈধ ইনকাম করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে নিজ প্রতিষ্ঠনের কর্মকর্তাদের ল্যাং মেরে পদ পদবী দখল করার গুরুতর অভিযোগও আছে সহকর্মীদের মধ্য থেকে । যদিও তার বিষয়ে কেউ নাম প্রকাশ করে কথা বলতে রাজী নন হননি। তবে ২০০৮ সালের তত্বাবধায়ক সরকার বিদায় নেয়ার পর ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিএমইটিতে মাসুদ রানা হয়ে উঠেন অপতিরোধ্য।
ওই সময়ের প্রবাসী কল্যান মন্ত্রী, সচিব, ডিজি থেকে শুরু করে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের নাম ব্যবহার করে একচ্ছত্র সবকিছু নিয়ন্ত্রনে তার বিকল্প কেউ ছিলো না বলে খোদ বিএমইটি ও প্রবাসী কল্যান মন্ত্রনালয় সংশ্লিষ্টরা এক বাক্য স্বীকার করছেন। তবে মাসুদ রানা পুরো আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সুযোগ সুবিধা বাগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে সাবেক প্রবাসী কল্যান মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহিনকে ব্যবহার করে বিএমইটিতে নতুন পরিচালক পদ সৃষ্টি করার ব্যবস্থা করেছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি তার সিনিয়র সহকর্মীদের ডিংগিয়ে পরিচালক পদ বাগিয়ে নিয়েছেন বলে প্রবাসী কল্যান মন্ত্রনালয়ের একাধিক কর্মকর্তার কাছ থেকে জানা গেছে।
গত সপ্তাহে মন্ত্রনালয়ের একজন কর্মকর্তা মাসুদ রানার প্রসংগ আসতেই বলেন, ‘আরে ও তো একটা ধুরন্ধর মাল!’ ও কিভাবে পরিচালক হলো তা এই মন্ত্রনালয়ের সবারই কমবেশী জানা আছে কিন্তু। আমাদের প্রবাসী কল্যানের সিনিয়র সচিব ড. আহমেদ মনিরুছ সালেহিন স্যারের বাড়ি নেত্রকোনায়। একই এলাকায় বাড়ি মাসুদ রানারও। ওই সময় মাসুদরানা ছিলো বিএমইটির পরিসংখ্যান কর্মকর্তা। স্যারকে কাজে লাগিয়ে প্রথমে সহকারী পরিচালক পদ এরপর তার কয়েকজন সিনিয়র সহকর্মীকে ডিংগিয়ে নতুন পরিচালক পদ সৃষ্টি করে ওই পদে (পরিচালক প্রশাসন ও অর্থ) সে বসে পড়লো। এরপর থেকে শুরু হয় তার মাল কামানির ধান্ধা। শুনছি তার নামে বিভিন্ন সরকারী দফতরে অনিয়ম করে কোটি কোটি টাকা কামাই এবং নামে বেনামে সম্পদ অর্জন করার অভিযোগ দিয়েছে কে বা কারা। যারা এসব অভিযোগ দিয়েছে সেটি কিন্তু মিথ্যা না। বরং আরো বাড়তে পারে। এমনিতেও তাকে বিএমইটিতে সবাই ভিন্ন চোখে দেখে। তার টাকা কামানোর স্টাইল ও ভিন্ন। আওয়ামী লীগের আমলে বিএমইটিতে যত খাত থেকে অনিয়ম করে টাকা কামানোর সুযোগ ছিলো, সবকিছু তার নিয়ন্ত্রনেই হতো! তার সময়ে যে কজন ডিজি দায়িত্বে এসেছে সবাই তার ইশারায় চলার চেষ্টা করতেন। বিদায়ী ডিজি সালেহ আহমদ মোজাফফর স্যার তো পুরোই তার উপর নির্ভরশীল ছিলেন। তবে তার কথা শোনেন নি মাত্র ২ মাসের দায়িত্ব শেষে চেয়ার হারানো ডিজি মো: আবুল হাছানাত মোঃ হুমায়ুন কবির।
বিএমইটিতে ২৭৩ জন আউট সোর্সিংয়ে লোক নিয়োগের অর্থ কেলেংকারী ও লাউসগামী কয়েক হাজার কর্মীর ( আনডকুমেন্টেড) বর্হিগমন ছাড়পত্র দেয়া না দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডিজির সাথে তার বিরোধ তৈরী হয়। এসব কারনে ডিজিকে বিদায় নিতে হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই। আর এই ঘটনায় সরাসরি নেপথ্য থেকে কলকাঠি নেড়েছেন মাসুদরানা। যদিও বিদায়ী ডিজি তার অধীনস্তদের কাছে বলে গেছেন, “আমি প্রয়োজনে এখান থেকে চলে যাবো, তবু অন্যায় কোন কাজ আমি করবো না।’
এসব অভিযোগ সম্পর্কে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পরিচালক মাসুদ রানার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।