রিপোর্ট : নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা :
আটক নেতা জিহাদকে রহস্যজনকভাবে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ।
শেরেবাংলা নগরে প্রশ্নের মুখে পুলিশের ভূমিকা।
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাক
রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের একটি ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে। মিছিলের নেতৃত্বদানকারী হিসেবে পরিচিত ছাত্রলীগ নেতা মো. জিহাদ হোসেনকে পুলিশ আটক করার পর অজ্ঞাত কারণে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সড়কে হঠাৎ করেই একটি মিছিল বের হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং কয়েক মিনিটের মধ্যে এলাকা ত্যাগ করেন। মিছিলটির নেতৃত্বে ছিলেন শেরেবাংলা নগর থানা ছাত্রলীগের ১৮ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. জিহাদ হোসেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিছিল চলাকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জিহাদ হোসেনকে আটক করে। তবে কিছু সময় পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। কেন তাকে মুক্তি দেওয়া হলো, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এদিকে, ঘটনার একটি ভিডিও এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। ভিডিওতে জিহাদকে পুলিশের সঙ্গে দেখা যায় এবং স্থানীয় সূত্রের দাবি, সেখানে নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিই মো. জিহাদ হোসেন যাকে পুলিশ আটকের পর ছেড়ে দিয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।”
তবে একজন থানাপ্রধানের এমন বক্তব্য ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। কারণ, স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি ছিল এবং একজনকে আটকও করা হয়েছিল।
এ ঘটনায় বেশ কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—
নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ব্যানারে কীভাবে প্রকাশ্যে মিছিল অনুষ্ঠিত হলো?
মিছিলের নেতৃত্বদানকারীকে সত্যিই আটক করা হয়েছিল কি না?
আটক করা হয়ে থাকলে তাকে কোন প্রক্রিয়ায় মুক্তি দেওয়া হলো?
এ বিষয়ে থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা অবগত নন কেন?
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। তারা বলছেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠনের প্রকাশ্য তৎপরতা এবং পরবর্তীতে আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত না হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে জনমনে আরও প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানার চেষ্টা চলছে। নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে পরবর্তী প্রতিবেদনে তা তুলে ধরা হবে।