রিপোর্ট : নিজস্ব প্রতিবেদক :
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্ধশতাধিক মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই ব্যক্তি—শাওন ও জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আকর্ষণীয় প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেওয়ার পর বর্তমানে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে রয়েছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, শাওন ও জাহাঙ্গীর নিজেদের বিদেশে জনশক্তি পাঠানোর সঙ্গে জড়িত বলে পরিচয় দিতেন। তারা দ্রুত ও বৈধভাবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে একেকজনের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা করে গ্রহণ করেন। অনেকেই জমি বিক্রি, ঋণ গ্রহণ কিংবা স্বজনদের কাছ থেকে ধার করে এই অর্থ পরিশোধ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, টাকা নেওয়ার পর প্রথমদিকে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হলেও পরে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বর্তমানে তাদের কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা। এতে প্রতারণার শিকার পরিবারগুলো চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটে পড়েছে।
একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, “আমাদের স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল ইউরোপে ভালো চাকরির। বিশ্বাস করে সব সঞ্চয় তুলে দিয়েছি। এখন না পাচ্ছি বিদেশ যাওয়ার সুযোগ, না ফেরত পাচ্ছি আমাদের কষ্টার্জিত টাকা।”
ভুক্তভোগীরা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, অর্থ উদ্ধারের ব্যবস্থা এবং প্রতারণার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাওন ও জাহাঙ্গীরের বক্তব্য পাওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে প্রতারণার ঘটনা এড়াতে সাধারণ মানুষের উচিত সরকার অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশে যাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও বৈধতা যাচাই করা।