রিপোর্ট : আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
গ্রিনল্যান্ডে পৌঁছেছে ইউরোপের সাতটি দেশের সেনারা। ‘তথাকথিত’ যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ হিসেবে দেশগুলোরে সেনারা দেশটির রাজধানী নুকে পৌঁছায়। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সর্বশেষ দল হিসেবে ফ্রান্সের ১৫ সদস্যদের একটি ছোট সেনাবহর সেখানে পৌঁছায়।
এর আগে জার্মানি, ফিনল্যান্ড, সুইডেন, নরওয়ে, যুক্তরাজ্য ও নেদারল্যান্ডসও সীমিত আকারে গ্রিনল্যান্ডে তাদের সেনা পাঠিয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ড ‘প্রয়োজন’—দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পর এমন দাবির মধ্যেই ইউরোপের দেশগুলোর সেনারা গ্রিনল্যান্ডে পৌঁছান।
বিবিসি প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের একটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। দ্বীপটি ৬৪০ বছর ধরে ডেনমার্কের সঙ্গে যুক্ত। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ জানান, প্রাথমিকভাবে পাঠানো এই দলের সঙ্গে শিগগির স্থল, আকাশ ও নৌ সক্ষমতায় আরও শক্তিশালী করা হবে।
ফ্রান্সের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক অলিভিয়ে পয়ভ্র দ’আরভোর বলেছেন, এই মিশন কঠোর রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে। যুক্তরাষ্ট্রকে দেখানো হবে যে সামরিক জোট ন্যাটো সাহায্যের জন্য প্রস্তুত।
অবশ্য ইউরোপের দেশ পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক জানিয়েছেন, তাঁর দেশ এই যৌথ ওই মহড়ায় অংশ নেবে না। আবার গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ হলে তা ‘রাজনৈতিক বিপর্যয়’ হবে বলেও মন্তব্য করেছেন।
প্রসঙ্গত, ডেনমার্কের নেতৃত্বাধীন ‘অপারেশন আর্কটিক এন্ডিউরেন্স’ যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নিতে ইউরোপীয় সেনারা গ্রিনল্যান্ড গেছেন। এই মহড়ায় কয়েক ডজন সেনা অংশ নেবে। মিশনটি প্রতীকী দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, তা কতদিন চলবে তা স্পষ্ট নয়।
এছাড়া, রাশিয়ার পক্ষ থেকে ন্যাটোর আর্কটিক অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে, বুধবার ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ওয়াশিংটনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকের পর ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন বলেন, আলোচনা গঠনমূলক হলেও গ্রিনল্যান্ড নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ‘মৌলিক মতবিরোধ’ রয়ে গেছে। তিনি ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড কেনার প্রস্তাবের সমালোচনা করেন।
অন্যদিকে, গ্রিনল্যান্ডকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রচেষ্টায় অনড় অবস্থানে রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড আমাদের প্রয়োজন।
এমনকি গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণ নিতে শক্তি প্রয়োগের বিষয়টিও তিনি সরাসরি উড়িয়ে দেননি। তবে বুধবার রাতে ট্রাম্প বলেছেন, ডেনমার্কের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো সমাধান বা সমঝোতা হতে পারে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, ইউরোপীয় সেনা মোতায়েন ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব ফেলবে না এবং গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের লক্ষ্যও অপরিবর্তিত থাকবে।
ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেতারা জোর দিয়ে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে চায় না। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন স্পষ্টভাবে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানায় যেতে এবং শাসিত হতে চায় না, যুক্তরাষ্ট্রের অংশও হতে চায় না।
সূত্র: রয়টার্স