রিপোর্ট : রুহুল আমিন খাঁন স্বপন:
প্যারোলে অস্থায়ী মুক্তি পেয়ে প্রয়াত মায়ের নামাজে জানাজায় অংশ নিয়েছেন ফরিদগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র মাহ্ ফুজুল হক।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় ঢাকার গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৮ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে তিনি নিজ এলাকা ফরিদগঞ্জে আসেন। কারা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাকে মায়ের জানাজায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়।
শুক্রবার বাদ আসর ফরিদগঞ্জ পৌরসভার দক্ষিণ কাছিয়াড়া জমদ্দার বাড়িতে মরহুমা বদরুন্নেসার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
নামাজে জানাজায় অংশ নিয়ে সাবেক মেয়র মাহ্ ফুজুল হক আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তার মায়ের রূহের মাগফিরাত কামনায় সকলের কাছে দোয়া চান। তিনি বলেন, “মহান রাব্বুল আল-আমিন যেন আমার মাকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করেন।”
জানাজায় সাবেক মেয়র মঞ্জিল হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও দলমত নির্বিশেষে হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, মাহ্ ফুজুল হকের মা বদরুন্নেসা (৬০) গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কারাগার থেকে পুলিশ পাহারায় মাহ্ ফুজুল হককে বাড়িতে আনা হলে সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন পর সন্তানকে এক নজর দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
প্রসঙ্গত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংশ্লিষ্ট একটি হত্যা মামলায় গত বছরের ৮ অক্টোবর রাতে ঢাকার ডেমরা থানা এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মাহ্ ফুজুল হককে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন।
প্যারোলে মুক্তির সরকারি আদেশ অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত তাকে সাময়িকভাবে মুক্ত রাখা হয়। জানাজা শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তাকে পুনরায় গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, “প্যারোলে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মুক্তির আদেশ পাওয়ার পর ঢাকা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে মাহ্ ফুজুল হককে ফরিদগঞ্জে আনা হয়। ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেই তিনি তার মায়ের জানাজায় অংশ নেন। পরে তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়।”
মাহ্ ফুজুল হক ফরিদগঞ্জ পৌরসভার সদর এলাকার কাছিয়াড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং মাওলানা শহীদ উল্যার সন্তান।