রিপোর্ট : শাহাজাহান মিয়া (শাকিল) :
ঢাকা মহানগরীতে অনুমোদনের তুলনায় ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি ইজিবাইক চলাচল করছে। ফলে রাজধানীর প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলি-গলিতেও তৈরি হচ্ছে যানজট, পাশাপাশি বেড়েছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সিটি করপোরেশন ও বিআরটিএর অনুমোদন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সংখ্যক ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চলাচলের কথা থাকলেও বর্তমানে তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি চলছে। বিশেষ করে মহাখালী, মিরপুর, গাবতলী, জসীম উদ্দিন, মুগদা, যাত্রাবাড়ী ও পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় এসব ইজিবাইক রাস্তায় অনিয়ন্ত্রিতভাবে নামছে।
দুর্ঘটনার হার বাড়ছে :
ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, ইজিবাইক চালকরা অধিকাংশ সময়ই অপ্রশিক্ষিত এবং লাইসেন্সবিহীন। অনেক চালক কিশোর বয়সী হওয়ায় তারা সড়ক আইন মানতে অনিচ্ছুক। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন যাত্রী ও পথচারীরা। শুধু গত মাসেই রাজধানীতে ইজিবাইক জড়িত ছোট-বড় অন্তত শতাধিক দুর্ঘটনার রেকর্ড পাওয়া গেছে।
আইন প্রয়োগে দুর্বলতা :
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“ইজিবাইক চলাচল নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান চালানো হয়। কিন্তু মালিকপক্ষের রাজনৈতিক প্রভাব ও যাত্রী চাহিদার কারণে এগুলো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না।”
যাত্রী ভোগান্তি ও জনমত :
যাত্রীরা স্বল্প খরচে যাতায়াতের কারণে ইজিবাইককে স্বস্তির বাহন মনে করলেও অনেকেই মনে করেন, রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে এটি গণপরিবহনের বিকল্প নয়। বরং ট্রাফিক শৃঙ্খলা ভেঙে আরও ভোগান্তি বাড়াচ্ছে।
বিশেষজ্ঞ মত :
ইজিবাইককে ঢাকার প্রধান সড়কে চলাচলের অনুমতি দেয়া হলে তা যানজট আরও জটিল করবে। দ্রুত এ বিষয়ে সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন করা জরুরি।”
প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট নীতি :
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীতে ইজিবাইকের জন্য নির্দিষ্ট রুট, নিবন্ধন ও লাইসেন্স প্রক্রিয়া চালু করা দরকার। নইলে সড়ক নিরাপত্তা ও জনস্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।