রিপোর্ট : নিজস্ব প্রতিবেদক :
বৈষম্য আর ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের দুই বছরপূর্তি আজ। ২০২৪ সালের এ দিনে ছাত্র-জনতার তীব্র প্রতিরোধের মুখে পতন ঘটে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন শেষ পর্যন্ত ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। এক মাসের অধিক সময় ধরে চলা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন রক্তপাতে রূপ নেয়। ছাত্র-জনতার প্রবল প্রতিরোধের মুখে ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যায়।
বহু ত্যাগ আর সংগ্রামে অর্জিত এ দিনটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা তৈরি করে। চূড়ান্ত পরিণতির আগে ৩ আগস্ট আন্দোলনকারীরা আনুষ্ঠানিকভাবে ‘একদফা’ দাবি ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই লাখো মানুষ শেখ হাসিনার পতনের দাবিতে রাজপথে নামতে শুরু করেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ এবং সহিংসতার ঘটনাও ঘটে। এতে অন্তত ১৪০০ মানুষ শহীদ হয়।
এর আগে দেশজুড়ে কারফিউ জারি করা হয়। তবে ৫ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হলে কারফিউ উপেক্ষা করে ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। কেউ বাসে, কেউ ট্রাকে-মোটরসাইকেলে, আবার অনেকে মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে রাজধানীতে প্রবেশ করেন। দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলো জনসমুদ্রে পরিণত হয়। একদফার স্লোগানে মুখরিত রাজপথ ধরে আন্দোলনকারীরা গণভবনের দিকে অগ্রসর হতে থাকেন।
অবস্থা বেগতিক দেখে ছাত্র-জনতার প্রতিরোধের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেন। এর মধ্য দিয়ে টানা প্রায় ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। পরবর্তীতে সরকার ৫ আগস্টকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয়। সাধারণ হিসাবে তারিখটি ৫ আগস্ট হলেও অভ্যুত্থানকারীরা জুলাইয়ের রক্তস্রোত না থামা পর্যন্ত মাসটিকে ৩৬ জুলাই পর্যন্ত বিবেচনা করেন।