মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৩৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আমদানী রপ্তানি ঢাকা আঞ্চলিক অফিসে দূর্নীতির নীরব সিন্ডিকেট নেপথ্যে উপ-নিয়ন্ত্রক ওবায়দুল্লাহ : চিলমারী নদী বন্দর স্থাপন প্রকল্পে চলছে হরিলুট নেপথ্যে প্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম আজাদ : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি শিপন, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর পুনর্নির্বাচিত: মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রোতে সন্দেহজনক ব্যাগ, স্টেশন বন্ধ: ডিএমপির ৩ থানায় নতুন ওসি: শাপলা চত্বরে গণহত্যার মামলায় লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ: সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের উদ্যোগে পাবলিক স্পিকিং প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত: চট্টগ্রামের ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ডেভিড ইমনকে যশোর থেকে গ্রেপ্তার: অর্ধশতাধিক মানুষকে ইউরোপে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে উধাও, অভিযুক্ত শাওন ও জাহাঙ্গীর: বিআরটিএ’র মেট্রো সার্কেল-১, লাইসেন্স বোর্ডের দুর্নীতিবাজ আওয়ামী লীগের দোসর জিয়া বহাল তবিয়তে ! অঢেল সম্পদ গড়েছেন, দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অংকের টাকা :

চিলমারী নদী বন্দর স্থাপন প্রকল্পে চলছে হরিলুট নেপথ্যে প্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম আজাদ :

রিপোর্ট : নিজস্ব প্রতিবেদক :

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ এই প্রতিষ্ঠানটির মূল উদ্দেশ্য বাংলাদশের নদী বন্দর গুলো উন্নত ও সচল রাখা নদী বন্দর ব্যবহারে সুবিধার্থে এই সংস্থায় বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বন্দর ও নদী উন্নয়নের কাজে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে আসছে সরকার। আর এই খরচের অর্থ দেওয়া হয় বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালকদের হাতে। সেই সুযোগে প্রকল্প পরিচালক এবং ঠিকাদাররা মিলে মিশে হরিলুটের বাজার বসায় প্রকল্পের অর্থের ওপর। তেমনি একজন দুর্নীতিবাজ প্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম আজাদ। তিনি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (BIWTA) এর চিলময়ী নদী বন্দর স্থাপন প্রকল্পের পরিচালক এর দায়িত্বে কর্মরত।

সূত্রমতে, আওয়ামী সরকারের আমলে উক্ত প্রকল্পটি শুরু হয়। প্রকল্পের খরচ দেখানো হয়েছে প্রায় ৩৩৫ কোটি টাকা। সাবেক নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদের একান্ত আস্থা ভাজন ব্যক্তি ছিলেন আবুল কালাম আজাদ। তেমন কোন কাজ না করেই বিল তুলে ভাগা ভাগি করে নেন ঠিকাদার এবং উক্ত প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম আজাদ।

অফিস সূত্রমতে, প্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম আজাদের কথিত ভাগ্নে সজলের দিপন এন্টারপ্রাইজ নামে নিজস্ব ক্ষমতা বলে সাইট ডেভলোপমেন্ট সহ বেশ কিছু কাজ বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু কোন কাজ সম্পর্ন না করেই প্রকল্পের টাকা আবুল কালাম আজাদ ও সজল দুজনেই ভাগা ভাগি করে নেন। আরও জানা যায় যে, সাইট ডেভলোপমেন্ট এর কাজ কোন প্রকার বালু ভরাট না করেই ভূয়া বিল তৈরী করে হাতিয়ে নেন কয়েক কোটি টাকা। যেটা সরোজমিনে তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে সব সত্য ঘটনা। এছাড়া প্রকল্পের ভবন নির্মাণে ও করা হয়েছে অনিয়ম ও দুর্নীতি। কোন প্রকার মানা হয়নি সরকার কর্তৃক অনুমোদিত নকশা একটি ভবনেও সঠিক ভাবে পাইলিং না করার কারনে প্রতিটি ভবন ঝুকির ভিতর রয়েছে বলে স্থানীয় সাধারণ জনগন জানিয়েছেন। অন্য দিকে প্রকল্পের আওতাধীন এলাকায় ভূমি অধিগ্রহণ বিল নিয়ে করা হয়েছে নজির বিহীন জালিয়তী যে, নিয়মে বিলের টাকা পরিশোধ করার কথা সেটা না করে আবুল কালাম আজাদ ভিন্ন কৌশল করে অর্থ হরিলুট করেছেন বলে জানা যায় ডিজি বাংলা এর একাউন্ট এনআরবি ব্যাংক মিরপুর শাখা, যার মেমো নং ১৮১৪০০০০২৯৮.১৯০২১/২৭৯ এর অনুকুলে প্রকল্প পরিচালক আবুল কালামের স্বাক্ষরিত ডিজি বাংলা এর নামে পেমেন্ট প্রদান করা হয়েছে। যেটার নিয়ম ছিল জয়েন্ট ভেনসার এর মাধ্যমে বিল পরিশোধ করা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন অফিস কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পের টাকা কাজ না করেই কয়েক জন ঠিকাদার এবং আবুল কালাম আজাদ মিলে মিশে ভাগা ভাগি করে নিয়েছেন। তিনি আমাদের প্রতিবেদককে আরো জানান দিপু এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সজল চন্দ্র দত্ত প্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম আজাদের একান্ত ঘনিষ্ট জন হওয়ার সুবাদে উক্ত প্রকল্পের হরিলুটের অধিকাংশ টাকাই তিনি গ্রহণ করেন। প্রকল্পের টাকা ব্যাংকে জমা রাখা হয় দিপু এন্টারপ্রাইজ,

পুবালী ব্যাংক, ফরেন এক্সচেঞ্জ শাখা। এছাড়া বড় ধরনের টাকা ভাগভাগির সময় সরা সরি ভাগা ভাগি করা হতো বলে জানা যায়। প্রকল্পের অর্থ কাজ না করে ভাগা ভাগি এবং ব্যক্তিগত একাউন্টে রাখা এটা বড় ধরনের অপরাধ।

অন্য আরেকটি সূত্র থেকে জানা যায়, পাইলিং এর কাজে ধরা পরেছে মারাত্মক রকম জালিয়াতি ও দূর্নীতি। অফিস কার্যাদেশে প্রতি ইউনিট পাইলিং 500 mm Dia, Length 40.50 (m) এবং 16 mm রড 10 পিচ হলেও প্রতি ইউনিট পাইলিংয়ে 300 mm Dia, Length 23 (m) মিটার এবং 10 পিচের বদলে 7 পিচ ব্যবহার করা হয়। উক্ত পাইলিংয়ের রডের কাজ উপ সাব কন্ট্রাকে দেওয়া হয় “মায়ের দোয়া কনস্ট্রাকশন ” স্বত্বাধিকারী মো: নাসির উদ্দিন এর অনুকূলে।

এই বিষয় এ প্রতিবেদক প্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম আজাদ মোল্লার সাথে বার বার চেষ্টা করেও মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি তবে প্রতিবেদক বার বার ম্যাসেজ দিলে তার উত্তরে তিনি বর্তমান সরকারের এক প্রতিমন্ত্রীর একটা ঠিকাদারি লাইসেন্সের কপি পাঠান এবং ঐ লাইসেন্সের অনুকূলে তার প্রতিষ্ঠানের নামে ঐ প্রকল্পের কাজ সাব কন্ট্রাক্টে দেখানো হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা