রিপোর্ট : নিজস্ব প্রতিবাদক :
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ আমদানি রপ্তানি নিয়ন্ত্রক অফিস যে সংস্থাটির প্রধান কাজ দেশের বড় বড় ব্যবসায়ীদের ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয় সহযোগিতা করা। উক্ত প্রতিষ্ঠানটির সামান্য সহযোগিতায় অনেক ব্যবসায়ীরা শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ব্যবসার উদ্দ্যেশে। ফলে সারা বছরে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব পায় সরকার। কিন্তু উক্ত অফিসে কিছু সংখ্যক অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীদের আচরণের কারনে সেবা প্রত্যাশীরা সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারনে থুবরে পড়েছে আমদানি রপ্তানি ঢাকার আঞ্চলিক অফিস। সেই কারনে সরকার বছরে কয়েক শত কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে জানা যায়।
সূত্রমতে, সরকারী চাকুরী বিধিমালা অনুসারে কোন কর্মচারী/কর্মকর্তা তিন বছরের অধিক একই স্থানে চাকুরী করতে পারবে না। কিন্তু নিয়ম নীতির কোন তোয়াক্কা না করে উপ-নিয়ন্ত্রক ওবায়দুল্লাহ দীর্ঘ দিন যাবৎ ঢাকা অফিসে কর্মরত আছেন। এখানে সাধারন ভাবেই একটা প্রশ্ন থেকে যায় কিসের এতো মধু এই অফিসে। আরেকটি সূত্র থেকে জানা যায়: ওবায়দুল্লাহ উপ-সহকারী নিয়ন্ত্রক হয়ে ও দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ সহকারী নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন এটাও এক ধরনের নিয়ম বহিভূত।
আইআরসি/ইআরসি সংক্রান্তঃ ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা শুরু করার আগেই আইআরসি/ইআরসি এর জন্য আবেদন করলে যে সব কাগজের প্রয়োজন নাই, সে সব কাগজ চেয়ে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করেন উক্ত ওবায়দুল্লাহ। উদাহারন স্বরুপ একটি সদস্য সনদ দাখিল করলে হয়রানি করার জন্য অন্য মেম্বারশীপ চাওয়া হয়। আবার হয়রানি মূলক কখনো ব্যাংকের সত্যায়িত পিআই কপি চাওয়া হয়। সেবা গ্রহীতারা ওবায়দুল্লাহর কাছে আইআরসি/ইআরসি সংক্রান্ত পরামর্শ চাইলে উল্টো তাদের বকাবকি খেয়ে যেতে হচ্ছে বলে জানা যায়। এই উপ-নিয়ন্ত্রক ওবাইদুল্লাহ পূর্বে কয়েক বৎসর জিটিসিএল এ কর্মরত থাকা অবস্থায় দুর্নীতির অসংখ্য অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে আমদানি রপ্তানি অফিসে যোগদান করেন। তিনি ২০১২-২০১৮ইং সাল পর্যন্ত জিটিসিএল এ কর্মরত ছিলেন। সেখানে তদন্ত করলে অনেক দুর্নীতির তথ্য পাওয়া যাবে।
ওবায়দুল্লার রাজনৈতিক পরিচয়ঃ ওবায়দুল্লাহ ছাত্র জীবনে বুয়েট হল শাখার ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। ইঞ্জিনিয়ার ইনষ্টিটিউট এর নির্বাচনে আওয়ামী পন্থী প্যানেলে ভোট ডাকাতি করে নির্বাচিত হয়ে ছিলেন। আরও উল্লেখ থাকে যে তিনি সরকারী চাকুরী করা অবস্থায় বুয়েট ছাত্রলীগের সমাবেশে অংশ গ্রহন করেছেন যার প্রমান এবং ফুটেজ অনেক জায়গায় আছে।
দুর্নীতির নীরব সিন্ডিকেটঃ নিয়ন্ত্রক মাসুদুল মান্নানের আর্শীবাদ পুষ্ঠ হওয়ার কারনে ওবায়দুল্লাহ উপ-নিয়ন্তক পদে পদান্নিত পেয়েও ব্যক্তিগত স্বার্থের কারনে এবং অর্থের লোভে সহকারী নিয়ন্ত্রক পদের দায়িত্ব পালন করে আসছে। যেটা তার কাজ নয় তিনি দীর্ঘ দিন যাবৎ নিয়ন্ত্রক মাসুদুল মান্নানের ছত্রছায়ায় থেকে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করে আইআরসি/ইআরসি, শিল্প আইআরসি তদারকি করে এখন শত কোটি টাকার মালিক। ক্ষমতার দাপটে একই জায়গায় চাকুরী উপ-নিয়ন্ত্রক ওবায়দুল্লাহ দীর্ঘ ৮ বছর যাবৎ তদবির এবং ক্ষমতার দাপটে একই জায়গায় চাকুরী করে আসছেন। অন্য সবার নিয়ম মাফিক বদলী হলে ও অদৃশ্য এক শক্তির কারনে তিনি একই জায়গায় কর্মরত আছেন। এটা নিয়েও অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীদের মাঝে বড় ধরনের ক্ষোভ জন্ম নিয়েছে বলে জানা যায়। উক্ত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কর্মচারীদের কারনে আমদানি রপ্তানি ঢাকা আঞ্চলিক অফিসটি দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত হয়েছে। সেবা গ্রহীতাদের ধারনা টাকা ছাড়া উক্ত অফিসে সেবা পাওয়া বড়ই ভাগ্যের ব্যাপার। এ ব্যাপারে উক্ত কর্মকর্তাদের মতামত জানতে চাওয়া হলে তারা কথা বলতে রাজিনা বলে জানান।