রিপোর্ট : নিজস্ব প্রতিবেদক :
দীর্ঘ চার মাস চিকিৎসা শেষে আজ মঙ্গলবার সকালে দেশে ফিরছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। সোমবার রাত ৯টা ১০ মিনিটে বাংলাদেশ সময় লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর থেকে কাতারের রাজপরিবারের একটি বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। কাতারে স্বল্প সময়ের যাত্রাবিরতির পর আজ সকালেই হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁর অবতরণের কথা রয়েছে।

খালেদা জিয়ার সঙ্গে রয়েছেন তাঁর বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান এবং ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান। হিথরো বিমানবন্দরের ভিআইপি গেটে তাঁদের বিদায় জানান তারেক রহমান ও তাঁর মেয়ে জায়মা রহমান। বিদায় জানাতে সেখানে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম। এ ছাড়া যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহর থেকে আগত বিএনপির নেতা–কর্মীরা বিমানবন্দরের বাইরে খালেদা জিয়াকে বিদায়ী শুভেচ্ছা জানান।
গত ৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডন যান খালেদা জিয়া। লন্ডনে অবস্থানকালে কিংস্টনের বাসায় ছিলেন তিনি।
এদিকে বিএনপি নেত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে ঢাকার গুলশানে তাঁর বাসভবন ‘ফিরোজা’য় নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সোমবার রাত ৯টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, ফিরোজার প্রবেশপথে ৭৯ নম্বর রোডের মুখে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। বাসিন্দারা যানবাহন বা হেঁটে প্রবেশ করতে পারলেও ফিরোজার মূল গেটের সামনে অবস্থান করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ)-এর সদস্যরা।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, খালেদা জিয়ার বাসভবনে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ম্যাডামের ফেরত আসা ঘিরে কোনো নিরাপত্তার ঝুঁকি নেই। আমাদের নেতা–কর্মীদেরও শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
বিএনপি নেত্রীর প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা–কর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। গুলশান এলাকায় ইতোমধ্যে জড়ো হয়েছেন অনেকে। কুমিল্লা জেলা যুবদলের একাধিক নেতা–কর্মী জানান, তাঁরা ঢাকায় এসে গুলশান ২ নম্বর এলাকায় স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করবেন। দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তাই তাঁদের লক্ষ্য।
আজ সকালে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি সড়কপথে গুলশানের ফিরোজায় নিয়ে যাওয়া হবে খালেদা জিয়াকে। তাঁর স্বাস্থ্যের বিষয়ে বিএনপি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি না দিলেও নেত্রীকে ঘিরে দলের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন আশার সঞ্চার।