শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আসছে স্মার্ট সংবাদ শ্রমিক আন্দোলনে অর্থায়ন এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগে ২০৪ জন ব্যক্তিও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ: সাংবাদিক ও মালিক গ্রেপ্তারে লাগবে আদালতের অনুমতি: সাইবার সুরক্ষা আইন পুনর্বিন্যাস: মিরপুরে পোশাকশ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ: ফের বাড়লো এলপিজির দাম : গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ: বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহবায়ক মিল্টন, সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর: তাহসিফের মৃত্যু, সেই তরুণী গ্রেপ্তার, দীপকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু: শ্রমিক বিক্ষোভ, আগুন: মেট্রোরেল বন্ধ! এক-দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীর পরীক্ষা এক মাসের মধ্যে : শিক্ষামন্ত্রী:

আ.লীগ নিষিদ্ধে যেসব শঙ্কা ও সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকরা:

রিপোর্ট : নিজস্ব প্রতিবেদক :

 

নিষিদ্ধ আ.লীগ— যা কিছু শঙ্কা দেখছেন বিশ্লেষকরা

 

ছাত্র-জনতার গড়ে তোলা গণআন্দোলনের পরপরই আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ করার পক্ষে যেসব যুক্তি ছিল বা ওই সময় আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করলে তা যতটা গ্রহণযোগ্যতা পেত, ৯ মাস পর তা অনেকটাই শিথিল হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

 

তারা বলছেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মানুষ আওয়ামী লীগকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। কিন্তু এরপর জাতীয় বা রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে ওঠার বদলে বিভাজন বেড়ে যাওয়া এবং সুশাসনের অভাবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশায় ফাটল ধরেছে। এ প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় ইসলামি শক্তির উত্থানের আশঙ্কা করছেন অনেকেই।

 

এদিকে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোসহ উদার রাজনীতিতে বিশ্বাসী অনেকের অবস্থানই ছিল নির্বাচনের মাধ্যমে জনতার কাঠগড়ায় আওয়ামী লীগকে দাঁড় করিয়ে শিক্ষা দেওয়ার পক্ষে। কিন্তু সরকারের নির্বাহী আদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে দেওয়ায় মানুষের কাছে দলটির অবস্থান কোথায়, তা বোঝার সহজ সুযোগ রইল না বলেও মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও নিবন্ধন স্থগিত করতে ৯ মাস লাগল কেন? যখন অভ্যুত্থান হয়েছিল তখনই এ পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল। এখন তো একেকটা রাজনৈতিক দল একেক ধরনের অবস্থান নিয়ে নেমেছে। যেটা আমরা চিন্তা করেছিলাম— একটা সুষ্ঠু-সুন্দর রাজনীতি দেখতে পাব— আসলে তা দেখতে পাচ্ছি না।’

 

অধ্যাপক দিলারার মতে, আওয়ামী লীগের রাজনীতি স্থগিত করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটি জটিল পরিস্থিতির মধ্যে ঢুকে গেছে। নিয়তান্ত্রিক রাজনীতি ও সাংবিধানিক রাজনীতির সম্ভাবনা থেকেও বাংলাদেশ দূরে সরে গেল।

ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে ঐক্য গড়ে উঠেছিল, তাতে স্পষ্ট ফাটল ধরেছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের পর মাহফুজ আলম (তথ্য উপদেষ্টা) যে স্টেটমেন্ট দিয়েছেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। কারণ এই রাজাকার ও পাকিস্তানপন্থি— এসব শুনতে শুনতে আমরা ১৫ বছর কাটালাম, নতুন করে আর শুনতে চাই না।’

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের পর তথ্য উপদেষ্টার ফেসবুক স্ট্যাটাস, শাহবাগে জামায়াত নেতার দেওয়া ‘গোলাম আজমের বাংলায় আওয়ামী লীগের ঠাঁই নেই’ স্লোগান ও সে বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান পরিষ্কার না করা, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রশ্নে বিএনপির অবস্থানের স্পষ্ট না করা— এসব বিষয়ের মধ্যে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন সংকট ঘনীভূত হওয়ার আলামত দেখতে পাচ্ছেন ড. দিলারা চৌধুরী।

 

জুলাই অভ্যুত্থানের পরপরই আওয়ামী লীগকে দল হিসেবে নিষিদ্ধের দাবি উঠেছিল বিভিন্ন মহল থেকে। কিন্তু সরকার আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেনি। নানা ঘটনাপ্রবাহে একাধিকবার আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের আলাপ উঠেছে। এর মধ্যে সম্প্রতি আওয়ামী লীগ আমলের সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ চিকিৎসা নিতে দেশ ছাড়লে ফের এসব আলোচনা আরও গতি পায়।

 

এ ঘটনা ঘিরেই ফের আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবি তোলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ। তার দাবির প্রতি সংহতি জানায় গোটা দলই। প্রথমে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে ও পরে শাহবাগে টানা তিনদিন আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনগুলোকে নিষিদ্ধের দাবিতে অবস্থান নেয় এনসিপি। তাতে আরও কিছু দল ও সংগঠন সমর্থন জানায়।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের এক বিশেষ সভায় জুলাই আন্দোলন দমাতে গণহত্যা চালানোর অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ ও দলটির নেতাদের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংগঠনের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। পরে নির্বাচন কমিশনও দলটির নিবন্ধন স্থগিত করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কারও কারও অভিমত, অন্তর্বর্তী সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের রাজনীতি একটি জটিল পরিস্থিতির মধ্যে প্রবেশ করল। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় দেশে রাজনীতির সেক্যুলার ধারাটি দুর্বল হয়ে পড়বে। এর সঙ্গে সঙ্গে বিএনপি জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে ব্যর্থ হলে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক ধারাটি আরও শক্তিশালী অবস্থানে চলে আসবে।

 

আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের প্রভাব বুঝতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলে মন্তব্য করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ। তবে এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’ রাজনীতির কথা বলা হচ্ছিল, সেটি আর থাকছে না বলেও মনে করেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা