বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আসছে স্মার্ট সংবাদ শ্রমিক আন্দোলনে অর্থায়ন এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগে ২০৪ জন ব্যক্তিও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ: সাংবাদিক ও মালিক গ্রেপ্তারে লাগবে আদালতের অনুমতি: সাইবার সুরক্ষা আইন পুনর্বিন্যাস: মিরপুরে পোশাকশ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ: ফের বাড়লো এলপিজির দাম : গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ: বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহবায়ক মিল্টন, সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর: তাহসিফের মৃত্যু, সেই তরুণী গ্রেপ্তার, দীপকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু: শ্রমিক বিক্ষোভ, আগুন: মেট্রোরেল বন্ধ! এক-দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীর পরীক্ষা এক মাসের মধ্যে : শিক্ষামন্ত্রী:

জোটের ৬ নেতাকে নিয়ে আসন কেন্দ্রিক চিঠি, কোন ‘কৌশলে’ বিএনপি:

রিপোর্ট : নিজস্ব প্রতিবেদক :

দীর্ঘদিন ধরে যুগপৎ আন্দোলনে মাঠে থাকা সমমনা দলগুলোকে নিয়েই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি।

এর ধারাবাহিকতায় আন্দোলনের সঙ্গী দল গুলোর ছয় নেতাকে নিয়ে তাদের নির্বাচনী আসন উল্লেখ করে সহায়তা করতে চিঠি দিয়েছে বিএনপি।

আগামী নির্বাচন কবে হবে তাও এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তার আগেই শরিক নেতাদের কয়েকজনকে নিয়ে বিএনপির এ ধরনের চিঠি দেওয়া নিয়ে দল ও শরিকদের মধ্যে নানামুখী আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

এক তথ্য মোতাবেক জানতে পারা যায়, নির্বাচন ও সরকার গঠনে দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী জামায়াতের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখতে চায় বিএনপি।

নভেম্বরের প্রথম দিন থেকেই সারাদেশের সকল জেলা ও মহানগরে ১০ দিনব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই গণসংযোগ কর্মসূচি পালন করবে দলটি। ইতোমধ্যেই দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে সকল মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের কাছে গণসংযোগ কর্মসূচি সফল করতে বলা হয়েছে। কেন্দ্রের নির্দেশনা পেয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের নিয়ে কর্মসূচি সফলের প্রস্তুতিও নিয়েছেন তারা। এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৩০০ সংসদীয় আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিএনপি হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে।নির্বাচনের আগে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা যেন দলীয় কর্মকান্ডে অধিকতর সক্রিয় হয় তারই অংশ হিসেবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মাঝেমধ্যে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে বিভিন্ন জেলা-উপজেলার নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতিটি সংসদীয় এলাকার সম্ভাব্য প্রার্থীদের সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। শীঘ্রই সকল আসনে দলের প্রার্থীও ঠিক করা হবে বলে জানা যায়। দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে ভোটের মাঠে সক্রিয় হচ্ছে। তবে দীর্ঘদিন বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা সমমনা দলগুলোকেও কিছু আসন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আগেভাগেই সমমনা ৫টি দলের ৬ নেতাকে ৬টি আসন ছেড়ে দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। ইতোমধ্যেই এই ৬ নেতাকে চিঠি দিয়ে নিজ নিজ সংসদীয় আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেছে বিএনপি।

এই ৬ নেতা হলেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণ সংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর, সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান ও ১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক সৈয়দ এহসানুল হুদা। এই ৬ নেতাকে সার্বিক সহযোগিতা করতে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিএনপি নেতাকর্মীদেরও দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ২২ অক্টোবর বিএনপির মুখপাত্র ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ কথা জানানো হয়। বিএনপি ইতোমধ্যেই সমমনা দলের যে ৬ নেতাকে চিঠি দিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেছে তাদের মধ্যে জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রবকে লক্ষ্মীপুর-৪ আসন, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাকে বগুড়া-২ আসন, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকিকে ঢাকা-১২, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূরকে পটুয়াখালী-৩, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানকে ঝিনাইদহ-২ এবং জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদাকে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে নির্বাচন করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়াও গণফোরাম সভাপতি মোস্তফা মোহসিন মন্টুকে কেরানীগঞ্জ অথবা পুরান ঢাকার ১টি আসন এলডিপির (একাংশ) সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিমকে মৌখিকভাবে লক্ষ্মীপুর-১ এবং কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের নেতৃত্বাধীন এলডিপির আরেক অংশ বিএনপির সঙ্গে নির্বাচন করলে চট্টগ্রামের একটি ও কুমিল্লার ১টিসহ এ দলটিকে ক’টি আসন ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তী সরকার সকল সংস্কার কাজ শেষ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করতে চাইলেও বিএনপি এখন তাড়াতাড়ি নির্বাচন করার তাগিদ দিচ্ছে। যতবারই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপি নেতারা সাক্ষাৎ করেছেন ততবারই দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানেয়ছেন। বিএনপি চায় দ্রুত সংস্কার কাজ শেষ করে যেন জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা