বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:১৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শ্রমিক আন্দোলনে অর্থায়ন এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগে ২০৪ জন ব্যক্তিও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটক: মিরপুরে পোশাকশ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ: ফের বাড়লো এলপিজির দাম : গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ: বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহবায়ক মিল্টন, সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর: তাহসিফের মৃত্যু, সেই তরুণী গ্রেপ্তার, দীপকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু: শ্রমিক বিক্ষোভ, আগুন: মেট্রোরেল বন্ধ! এক-দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীর পরীক্ষা এক মাসের মধ্যে : শিক্ষামন্ত্রী: এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রায় অর্ধেক ফেল! পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ?:

ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ চেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ:

রিপোর্ট : নিজস্ব প্রতিবেদক :

 

ছাত্রদলের পোস্টার সাঁটানো কর্মসূচিকে কেন্দ্র  করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছাত্র রাজনীতি। শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ রাজনীতি নিষিদ্ধ চাইলেও ছাত্র সংগঠনগুলো এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েনের পাশাপাশি পাল্টাপাল্টি অভিযোগও করছেন।

গত বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের পোস্টার সাঁটানো কর্মসূচির পর রাতেই এর প্রতিবাদে এবং ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেন। পরে এর প্রতিবাদে সরব হন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। এর পেছনে অন্য কারও ইন্ধন আছে বলেও অভিযোগ তোলেন। তবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে অতীতে ছাত্র রাজনীতি ছিল নির্যাতন-নিপীড়নের। এ কারণে তারা এর বিরোধীতা করছেন।

দুই রাতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পর ছাত্র রাজনীতি নিয়ে তাদের অনীহা এবং সংগঠনগুলোর অবস্থান নিয়ে নানান ধরনের প্রশ্ন আলোচনায় আসছে। কেউ কেউ বলছেন, এর পেছনে নিষিদ্ধ গোষ্ঠী চক্রান্ত করছে। তারা ছাত্র রাজনীতিকে বিরাজনীতিকরণের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা কায়েম করতে চায়। আরেকটি অংশ বলছেন, ছাত্রলীগের রাজনীতি দেখে ভীত সন্ত্রস্ত হয়েই শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করছেন। ডাকসু নির্বাচনের দাবিও তুলেছেন। তবে সংস্কার করে সুস্থ ধারার রাজনীতি চালু রাখার মতও এসেছে।

ভবিষ্যতে পোস্টার লাগানোর মতো কর্মসূচির বিষয়ে আরও সচেতন হওয়ার কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশচন্দ্র রায় সাহস। তিনি বলেন, ‘আমরা আগে ছাত্রলীগের জন্য পোস্টার লাগাতে পারতাম না, তারা ছিঁড়ে ফেলতো। এখনও পারি না। আমাদের কার্যক্রমে ভুল থাকতে পারে। আমরা কাওকে দোষারোপ করব না। তবে পোস্টার লাগানো যদি অপরাধ হয়, ছেঁড়া আরও বড় অপরাধ।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র শিবিরের ছাত্র আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘গতকাল রাতের ঘটনার জন্য যদি কেউ ছাত্রশিবিরকে দায়ী করতে চায়, তবে সেটা ভুল হবে। এসব অভিযোগ সম্পুর্ণ অসত্য।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ বলেন, ‘আমরা সবসময়ই ছাত্র রাজনীতির পক্ষে। তবে তার আগে ছাত্র রাজনীতিকে সংস্কার করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে একটি রূপরেখা দিতে হবে যে, ছাত্র রাজনীতিতে কী করা যাবে আর কী করা যাবে না। প্রশাসনের এ ধীরগতির কারণেই ছাত্র সংগঠন ও ছাত্রদের মধ্যে ঝামেলার সৃষ্টি হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ চেয়ে সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) রাতে বিভিন্ন হলের সামনে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। পরে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে জড়ো হন তারা। এ সময় ‘টু জিরো টু ফোর, লেজুড়বৃত্তি নো মোর’, ‘লেজুড়বৃত্তির ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’, এমন নানান স্লোগান দেন তারা।

শিক্ষার্থী সাদিয়া ইয়াসমিন ঐতিহ্য বলেন, যে ছাত্র রাজনীতি ভীতি তৈরি করে, সে রাজনীতি তারা চান না। তারা ক্যাম্পাসে জিম্মি হতে চান না। একই ধরনের কথা বলেন তাহমিদ আল মুনতাসির। তাঁর ভাষ্য, হলে এবং ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতির কালো অধ্যায় তারা দেখেছেন।শিক্ষার্থীরা দলীয় লেজুড়বৃত্তিক ছাত্র রাজনীতি আর চায় না। প্রশাসনকে দ্রুত ডাকসু নির্বাচনের ব্যাবস্থা করতে হবে।

এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসিবুল ইসলাম বলেন, অভ্যুত্থানের পরে অপশক্তিরা হল দখল করে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অভ্যুত্থানের তিন মাস পার হলেও প্রশাসন সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে পারেনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা