রিপোর্ট : নিজস্ব প্রতিবেদক :
বাংলাদেশে ডেঙ্গুর বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট নিচে উপস্থাপন করা হলো:
🦟 ১. সার্বিক অবস্থা
জনগণের সতর্কতা জরুরি — এবছরের মে ও জুনে আক্রান্তের সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশী। নভেম্বর পর্যন্ত মোট ৬,৯২৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ৩০ জনের মৃত্যু ঘটেছে ।
প্রতিদিন নতুন রোগী — প্রতিদিন ২০০–২৮৮ নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন, সর্বশেষ একদিনে ২৪৮ জন ভর্তি হয়েছেন ।
২. ভৌগোলিক বিস্তৃতি
রাজধানী ছাড়া অধিকাংশ — মোট নতুন আক্রান্তের ৯৫%-এর বেশি মৃত্যু ও ভর্তি ঢাকার বাইরের জেলা থেকেই ।
বারিশাল অগ্রণী — বারিশাল বিভাগে একদিনে ১০৪ জন নগর ও ২৭৫ জন বিভাগীয় হাসপাতালে ভর্তি; বরগুনা জেলা উল্লেখযোগ্য হটস্পট যেখানে রোগীর ভিড় উত্তরণকারী অবস্থা ।
৩. হাসপাতালে চাপ ও স্বাস্থ্যবিভাগের অবস্থা
ভ্রমনশীল হাসপাতাল — বরগুনা জেলায় রোগীদের করিডরে, নার্সিং ডেস্কে এবং ফ্লোরে ভর্তি হচ্ছে, কারণ বিছানার অল্পতা; পরীক্ষার সুবিধাও প্রায় নেই ।
জনসচেতনতা ও vector control — যেসব এলাকায় হাসপাতাল সংকট, সেসব এলাকায় মশা নিয়ন্ত্রণ ও জনসচেতনতা কম; অংশীদারদের সক্রিয়তা বৃদ্ধির ডাক ।
৪. ডেঙ্গু ধরণ ও কারণ
বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্ট — ECDC-র রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫-এর মে পর্যন্ত মোট ৩,৯৭২টি ডেঙ্গু শনাক্ত ও ২৩ জনের মৃত্যু; ২০২৪-এর তুলনায় আক্রান্ত বেশি কিন্তু মৃত্যু কম ।
জৈব-পরিবেশগত সমস্যা — জলাধার, নির্মাণস্থল, অপরিকল্পিত পানি সঞ্চয়, নগরায়নের অযোগ্য ব্যবস্থা ডেঙ্গু বিস্তারে ভূমিকা রাখছে ।
৫. স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় চ্যালেঞ্জ
শয্যা সংকট ও ফারাকশনাল ব্যবস্থাপনা — প্রাথমিক হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংখ্যা অপ্রতুল, packed corridor, পরীক্ষার সুবিধার অভাব রয়েছে ।
বেসরকারি ক্লিনিকের দুর্নীতি — বাড়তি পরীক্ষা ও বিল্ডিং মুনাফা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে; প্রশাসন সতর্ক ।
৬. সুপারিশ
1. জবরদস্ত vector control — সারাদেশে নিয়মিত ফগিং ও জলাশয় শুকনো রাখা।
2. সচেতনতা বৃদ্ধি — গ্রামের স্তর পর্যন্ত শিক্ষা ও সন্ধানী ক্যাম্পেইন।
3. হাসপাতালে প্রস্তুতি — শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি, দরিদ্রদের জন্য খাবার ও পরীক্ষার ব্যবস্থাপনা।
4. স্বাস্থ্য তথ্য নির্ভরতা — বেসরকারি ক্লিনিকের অযথা ল্যাব পরীক্ষা বন্ধ ও সরকারি পরীক্ষা উৎসাহিত করা।
5. বিদ্যমান গবেষণা ব্যবহার — IEDCR-সহ জাতীয় সংস্থা থেকে নিয়মিত আপডেট ও নির্দেশনা অনুসরণ।
বর্তমানে বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রবণতা উদ্বেগজনক, বিশেষ করে ঢাকা বহির্ভূত জেলা ও বরগুনায়। হাসপাতাল সংকট, পানি সঞ্চয় ব্যবস্থা, জলাশয়ের সমস্যা ও জনসচেতনতার অভাব পরিস্থিতিকে তীব্র করছে। দুর্গত অঞ্চলগুলোতে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হতে পারে।