রিপোর্ট : শাহাজাহান মিয়া (শাকিল) :
ভূমিকা:
বাংলাদেশে যারা ব্যক্তিগতভাবে মোটরযান ব্যবহার করেন, তাদের জন্য গাড়ি কিনলে কিংবা রেজিস্ট্রেশন বা ফিটনেস করাতে গিয়ে “আয়কর সনদ” বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু অনেক নাগরিকই প্রশ্ন তুলেছেন—যেখানে গাড়ি ব্যক্তিগত চাহিদা পূরণের একটি উপকরণ, সেখানে সেটিকে বিলাসবহুল সম্পদ ধরে ‘আয়কর আদায়ের মাধ্যম’ হিসেবে দেখা কতটা যৌক্তিক?
মূল প্রতিবেদন:
১. ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর করের ধরন:
বাংলাদেশে একটি গাড়ি কিনলে সরকারিভাবে কয়েক ধরনের কর দিতে হয়:
ভ্যাট
রেজিস্ট্রেশন ফি
অ্যাডভান্স ইনকাম ট্যাক্স (AIT)
রোড ট্যাক্স
ফিটনেস ও টোকেন কর
এছাড়া গাড়ি রেজিস্ট্রেশনের সময় বাধ্যতামূলকভাবে আয়কর সনদ দাখিল করতে হয়। অনেক সাধারণ নাগরিকের মতে, এই ব্যবস্থা গরিব-মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের জন্য একটি অনৈতিক বোঝা।
২. বিতর্কিত দিকসমূহ:
একজন ব্যক্তি যদি নিজের জমানো টাকা বা প্রবাসী স্বজনদের উপহার হিসেবে গাড়ি কিনে থাকেন, এবং তার আয় করযোগ্য না-ও হতে পারে, তবুও তাকে আয়কর ফাইল করতে হয়।
সরকার একে রাজস্ব আয়ের উৎস হিসেবে দেখলেও, সাধারণ নাগরিকদের জন্য এটি হয় দুর্ভোগের কারণ।
৩. বিশেষজ্ঞ মতামত:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান বলেন,
“সব গাড়িকে বিলাসবহুল সম্পদ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। গ্রামে একজন চিকিৎসক বা টিচার যদি একটা ছোট গাড়ি কিনেন, সেটিকে বিলাসিতা ধরে কর চাপানো সামাজিক বৈষম্য সৃষ্টি করে।
৪. প্রভাবিত জনগণের অভিমত:
মো. জাহাঙ্গীর আলম, একজন প্রাইভেট কোম্পানির কর্মচারী বলেন,
> “আমি পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে একটা পুরাতন গাড়ি কিনেছি, কিন্তু আমাকে আয়কর রিটার্ন দিতে হয়েছে। অথচ আমি এখনও ট্যাক্স-স্ল্যাবের নিচে।”
শাহনাজ আক্তার, একজন স্কুলশিক্ষিকা বলেন,
“গাড়ি কিনেছি ছেলেমেয়েকে স্কুলে আনা-নেওয়ার জন্য। এখন দেখি করের চাপে পড়ে গেছি। “
৫. বিকল্প ব্যবস্থা কী হতে পারত?
নিম্ন আয়ের গাড়িচালকদের জন্য কর ছাড়ের ব্যবস্থা
গাড়ির ইঞ্জিন ক্ষমতা (CC) অনুযায়ী কর নির্ধারণ
প্রবাসীদের জন্য সহজ নীতিমালা
গাড়িকে ব্যক্তিগত ও বানিজ্যিক শ্রেণিতে আলাদা করা এবং ব্যক্তিগত ব্যবহারের গাড়িতে কর কমানো
গাড়িকে শুধুমাত্র আয় বা বিলাসিতা নির্ধারণের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা না করে, ব্যক্তিগত চাহিদা ও জনগণের জীবনযাত্রার মান বিবেচনা করে একটি ব্যালান্সড ট্যাক্স নীতিমালা তৈরি করা সময়ের দাবি। নাগরিকদের ওপর অযৌক্তিক কর চাপিয়ে দেওয়া হলে তা শুধু কর ফাঁকি বাড়াবে, সরকারের রাজস্বও বাড়াবে না।