বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটক: মিরপুরে পোশাকশ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ: ফের বাড়লো এলপিজির দাম : গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ: বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহবায়ক মিল্টন, সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর: তাহসিফের মৃত্যু, সেই তরুণী গ্রেপ্তার, দীপকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু: শ্রমিক বিক্ষোভ, আগুন: মেট্রোরেল বন্ধ! এক-দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীর পরীক্ষা এক মাসের মধ্যে : শিক্ষামন্ত্রী: এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রায় অর্ধেক ফেল! পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ?: তাহসিফের ‘জুনিয়র বন্ধু’ দীপকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই):

ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা” শীর্ষক আলোচনা সভা:

রিপোর্ট : নিজস্ব প্রতিবেদক :

 

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের এই ক্রান্তিলগ্নে জ্বালানী শিল্পের একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা জরুরী। জ্বীবাশ্ব জ্বালানী পৃথিবীতে গ্রীনহাউস গ্যাস ছড়িয়ে দিচ্ছে, যার ফলে পৃথিবীর পরিবেশ দিন দিন খারাপ হচ্ছে, আর তার ফলে আর্থসামাজিক বৈষম্যের মাত্রাও বেড়ে চলেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে, ন্যায্য জ্বালানী রুপান্তর নবায়নযোগ্য জ্বালানির উতসের একটি বিকল্প কৌশল শুধুমাত্র নয়, বরং এটা ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমুলক, এবং টেকসই উন্নয়নও ।

 

 

ন্যায্য রপান্তর এর বিষয়টি বাংলাদেশের মত একটি দেশের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। জ্বালানী চাহিদার বৃদ্ধির কারনে বাংলাদেশ এর অর্থনীতি দ্রুত সম্প্রসারনশীল যা বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশকে জ্বালানী সম্প্রসারন ও ন্যায্য রপান্তর এর বিবেচনায় অত্যান্ত গুরুত্মপুর্ন স্থানে নিয়ে গেছে। এই দেশটি এখন জ্বিবাশ্ম জ্বালানীর উপর ব্যাপক নির্ভরতায় কয়লা, তেল ও তরলীকৃত গ্যাস ইত্যাদী আমদানীর কারনে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা আর জ্বালানী নিরাপত্তাহীনতা উভয় দিক থেকেই ঝুকিপুর্ন অবস্থানে রয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানীর ব্যবহারকে উৎসাহিত করনের ব্যাপক প্রচেষ্টা থাকা সত্তেও এর পরিমান দেশের মোট জ্বালানীর সামান্য মাত্র।

 

 

বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানী নীতি ২০২৫ প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহন করেছে। এই নীতিতে নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যদিও অন্যান্য পরিকল্পনা ও নীতিমালার সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানীর লক্ষ্যগুলোর অসামঞ্জস্যতা রয়েছে। তাই এখনই সময় বাংলাদেশে ন্যয্য জ্বালানী রুপান্তরের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনাগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করার।

 

 

উপরোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনা করে, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ এবং ক্লাইমেট একশন নেটওয়ার্ক এশিয়া যৌথভাবে.২৫ আগষ্ট ২০২৫ তারিখে ঢাকার বনানীতে হোটেল পার্ল এ একটি আলোচনা সভার আয়োজন করে।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফসিল ফুয়েল নন প্রোলিফারেশন ট্রিট্রি ইনিশিয়েটিভ এর স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজার হার্জিত সিং। অন্যান্যদের মধ্যে যাঁরা আলোচক হিসেবে সভায় অংশগ্রহণ করেন তারা হলেন – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর ভূতত্ত্ব বিভাগের সম্মানিত অধ্যাপক বদরুল ইমাম, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর পরিবেশ অধিদপ্তর (DoE) এর পরিচালক মোঃ জিয়াউল হক, সেন্টার ফর রিনিউএবল এনার্জি সার্ভিসেস লিমিটেড এর চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরী, ফসিল ফুয়েল নন-প্রোলিফারেশন ট্রিটি ইনিশিয়েটিভ এর এশিয়া ক্যাম্পেইনার শিবায়ন রাহা, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এর অধিকার ও সুশাসন কর্মসূচি পরিচালক বনস্রী মিত্র নিয়োগী, সেন্টার ফর অ্যাটমোসফেরিক পলিউশন স্টাডিজ (CAPS) এর পরিচালক অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার, ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিক্স অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস (IEEFA) এর প্রধান বিশ্লেষক শফিকুল আলম, ও 350.org এর দক্ষিণ এশিয়া সমন্বয়কারী আমানুল্লাহ পরাগ।

 

অনুষ্ঠান এর সঞ্চালনা ও পটভূমি ব্যাখা করেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) এর কেন্দ্রীয় সদস্য সচীব শরীফ জামিল। ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) এর সহ আহবায়ক এম এস সিদ্দিকী সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন।

 

 

 

শরীফ জামিল বলেন গত সরকারের কার্যক্রমে বিদ্যুৎ খাতে সক্ষমতা তৈরী হয়েছে, আবার সমস্যাও তৈরী হয়েছে। কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কারনে কৃষি জমিসহ জনস্বাস্থ্য, লবণ চাষ, জীবন-জীবিকা ইত্যাদি ক্ষেত্রে ক্ষতি হয়েছে। আমাদে্র সঠিকভাবে পরিবেশ সমীক্ষা করা দরকার ছিল।

 

 

ফসিল ফুয়েল নন প্রোলিফারেশন ট্রিট্রি ইনিশিয়েটিভ এর স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজার হার্জিত সিং বলেন বাংলাদেশের কাছ থেকে অন্যান্য দেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে কিভাবে এগিয়ে যেতে হবে তা শিখেছে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১.৬ ডিগ্রী বৃদ্ধির কারনে আমরা খুবই চিন্তিত। আমাদেরকে নতুন চাপ সহ্য করতে হচ্ছে। যদি আমরা সচেতন না হই তাহলে আরও সমস্যা তৈরী হবে।

আমরা এখনো জ্বীবাশ্ব জ্বালানির উপরে নির্ভরশীল। নিরব বানিজ্য যুদ্ধ ও অন্যান্য বাধার কারনে আমাদের এগিয়ে যাওয়ার পথে জটিলতা তৈরী হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা খুবই প্রয়োজন। অনেক দেশের সক্ষমতা আছে কিন্তু তারা দায়িত্ব নিতে চায় না, কারন অর্থের যোগান দিতে হবে। প্যারিসে চুক্তিতে জ্বীবাশ্ব জ্বালানির কথা একবারও বলা হয় নাই। তিনি ফসিল ফুয়েল নন-প্রলিফারশন ট্রিটি তে অংশগ্রহনকারী দেশের পরিচিতি তুলে ধরেন।

 

 

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এর অধিকার ও সুশাসন কর্মসূচি পরিচালক বনস্রী মিত্র নিয়োগী বলেন ন্যায্য জ্বালানি সংশ্লিষ্ঠ প্রশ্নগুলো কখনই প্রান্তিক জনগোষ্ঠির কাছে করা হয় না। আমাদেরকে এই জনগোষ্ঠিকে নিয়েও ভাবতে হবে।

 

 

ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিক্স অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস (IEEFA) এর প্রধান বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন জ্বালানি রুপান্তর নির্ভর করে একটি দেশের সক্ষমতার উপর। আমাদের আমদানি নির্ভতার কারনে বারবার জ্বালানির দাম বাড়াতে হচ্ছে। তারপরও আমরা চাহিদা পূরণ করতে পারছি না। আমাদের সম্পূর্ণ জ্বালানি ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে।

 

 

ফসিল ফুয়েল নন-প্রোলিফারেশন ট্রিটি ইনিশিয়েটিভ এর এশিয়া ক্যাম্পেইনার শিবায়ন রাহা বলেন আমরা ভুল সমাধানের পথে এগিয়ে যাচ্ছি। যেমন কয়লা ভিত্তিক প্রকল্প থেকে এমোনিয়া ভিত্তিক কয়লা প্রকল্পের দিকে যাচ্ছি। বাংলাদেশ ফসিল ফুয়েল নন-প্রলিফারশন ট্রিটি’র ১৭টি দেশের অন্তর্ভূক্ত হওয়াতে গুরুপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে পারে। বাংলাদেশের সিভিল সোসাইটি নেতৃত্বপুর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

 

 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর পরিবেশ অধিদপ্তর (DoE) এর পরিচালক মোঃ জিয়াউল হক বলেন জ্বালানি ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থা ভাল না। মোট জ্বালানি উৎপাদনে কয়লা বিদ্যুতের অংশ ২৩ শতাংশ যা কোন ক্রমেই বাড়ানো যাবে না। আগামী ১৫ বছরের মধ্যে আমাদের অবস্থা আরও খারাপ হবে। আমাদেরকে কারিগরি প্রযুক্তি ও অর্থের উৎস নিয়ে ভাবতে হবে।

 

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর ভূতত্ত্ব বিভাগের সম্মানিত অধ্যাপক বদরুল ইমাম বলেন আমাদের জ্বালানি চাহিদা আছে, অথচ সেই অনুযায়ি উৎপাদন নেই। আমরা সকলে মিলে সচেতন হয়ে পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে পারি। এই ক্যাম্পেইন আরও বিশ্বব্যাপী হওয়া উচিত। তাহলেই আমরা জ্বীবাশ্ব জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে ফেলতে পারব।

 

 

সেন্টার ফর রিনিউএবল এনার্জি সার্ভিসেস লিমিটেড এর চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরী বলেন সবাই নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে ভর্তুকির কথা বলেন দায়িত্ব নেওয়ার পরে ভুলে যান। আমদানি কর কমানো হলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে উৎসাহিত হবে।

 

 

সভায় ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) এর সহ আহবায়ক এম এস সিদ্দিকী সমাপনী বক্তব্যে বলেন আমরা নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে এখনও কাজে লাগাতে পারছি না। জ্বীবাশ্ব জ্বালানিতে ভর্তুকী আছে অথচ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ট্যাক্স বসিয়ে বাধা সৃষ্ঠি করা হচ্ছে।

 

 

অনুষ্ঠান শেষে ক্লাইমেট একশন নেটওয়ার্ক দক্ষিন এশিয়া (সিএনএএসএ) এর উর্ধতন উপদেষ্টা পলাশ দাস সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা