বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৫০টি রেখে ২৫০ আসনে সমঝোতা জামায়াতসহ ১০ দলের, রাতে প্রার্থী ঘোষণা: প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক আজ সন্ধ্যায়: শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলা পুনঃতদন্তের নির্দেশ: অধ্যাদেশ জারির দাবিতে শিক্ষার্থীদের সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ : সহপাঠী সাকিবুল হত্যার বিচারের দাবিতে ফার্মগেট ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে অবরোধ শিক্ষার্থীদের: থাইল্যান্ডে চলন্ত ট্রেনের ওপর ক্রেন পড়ে নিহত ২২: বাংলাদেশের মাটিতে বিশ্বকাপ ট্রফি : মহানগরী জামায়াতের নিন্দা জামায়াত নেতাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা: একজন সূর্যসন্তানের চিরবিদায়: প্লট দুর্নীতি মামলায় ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা, টিউলিপ ও আজমিনার মামলার রায় ২ ফেব্রুয়ারি:

বিস্মিত বিচারকের প্রশ্ন ‘তিন ভাই মিলে খুন করলেন কেন?’ :

রিপোর্ট : নিজস্ব প্রতিবেদক :

 

ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্যসচিব আজিজুর রহমান মুসাব্বির হত্যাকাণ্ডে তিন সহোদরের সংশ্লিষ্টতা দেখে খোদ আদালতও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। সোমবার (১২ জানুয়ারি) এই মামলায় তিন আসামির ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করার সময় এজলাস কক্ষে তৈরি হয় এক নাটকীয় পরিবেশ।

 

এদিন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে আসামিদের হাজির করা হলে এক পর্যায়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে সরাসরি প্রশ্ন করেন, ‘তিন ভাই মিলে হত্যা করলেন কেন?’

 

জবাবে আসামিদের একজন রিয়াজ দাবি করেন, তিনি তখন ঘটনাস্থলে ছিলেন না, বরং কাজে ছিলেন। বিচারক যখন জানতে চান, ‘রহিম (আরেক ভাই) কোথায়?’ তখন রিয়াজ উত্তর দেন, ‘বলতে পারি না।’ রিয়াজ ও কাদির দুজনেই কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বিচারককে বলেন, ‘এই ঘটনার আমরা কিছুই জানি না, স্যার।’

 

 

যদিও তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই তিন ভাইয়ের একজন সরাসরি সমন্বয় করেছেন, একজন রেকি করেছেন এবং অন্যজন পালানোয় সহায়তা করেছেন।

 

আদালত শুনানি শেষে মামলার তিন আসামি মো. বিল্লাল, মো. আব্দুল কাদির ও মো. রিয়াজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অন্যদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের সরাসরি শুটার জিন্নাহ আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়। শুনানির সময় আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

 

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তির সহায়তায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

 

তিনি জানান, বিল্লাল ছিলেন এই হত্যাকাণ্ডের মূল সমন্বয়কারী, জিন্নাহ ছিলেন শুটার, রিয়াজ এলাকা রেকি করেছিলেন এবং আব্দুল কাদির খুনিদের পালাতে সাহায্য করেছিলেন।

 

ডিবি প্রধান আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ব্যবসায়িক বিরোধের কথা শোনা গেলেও কারওয়ান বাজারের চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক আধিপত্যের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নেপথ্যে থাকা কুশীলবদের শনাক্ত এবং অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

গত ৭ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে কারওয়ান বাজারের স্টার গলিতে আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। পান্থপথের একটি হাসপাতালে নেয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে রাজধানীর রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক মহলে ব্যাপক তোলপাড় চলছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা