রিপোর্ট : নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় ৪০টি পরিবারের উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সন্ত্রাসীদের হামলা, ভাঙচুর লুটপাট নির্যাতনের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, পল্লবী থানা ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের বহিষ্কৃত আহ্বায়ক ইব্রাহীম খলিল, বহিষ্কৃত সদস্য সচিব মো. রিয়াজ এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মো. ফাইয়াজ (মুন্না)-এর নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী বাহিনী তাদের বাড়িঘর, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সম্পদের ওপর হামলা, লুটপাট ও দখলদারির ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।
মানববন্ধনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগীরা দাবি করেন, বিভিন্ন মিথ্যা মামলাকে কেন্দ্র করে তাদের অসংখ্য বাড়িঘর দখল করা হয়েছে। এছাড়া ঘরবাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়। তারা জানান, স্থানীয় কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান মালামাল লুট করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, হযরত শাহ আলী এন্টারপ্রাইজ থেকে নতুন মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে যায় ওই সন্ত্রাসী গ্রুপরা। একইসঙ্গে বেনারশী শাড়ি সিল্ক হাউজ থেকে শাড়ি, ওড়না, নগদ অর্থ এবং বিভিন্ন পণ্য লুটপাটের অভিযোগও তোলা হয়। এছাড়া একটি অটোরিকশা গ্যারেজ থেকে ছয়টি অটোরিক্সা নিয়ে যাওয়া এবং একটি রানার মোটরসাইকেল আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেন তারা।
ভুক্তভোগীরা আরও বলেন, তাদের মালিকানাধীন বিভিন্ন স্থাপনা ও দোকান থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। অভিযোগে বলা হয়, দখলকৃত বাড়িগুলোতে প্রতিদিন দলবদ্ধভাবে প্রবেশ করে মাদক সেবন ও অন্যান্য অপকর্ম পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি, হুমকি ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, শিশু থেকে শুরু করে নারী, পুরুষ ও বৃদ্ধ কেউই ওইসব সন্ত্রাসীদের নির্যাতন থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে এবং বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তারা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন এবং রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের কাছে বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান।
এ সময় ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র সচিব সহ ঢাকা মহানগর পুলিশের সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, পল্লবী থানার ওসি এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
পাশাপাশি সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রকৃত ঘটনা জনগণের সামনে তুলে ধরবেন।
মানববন্ধন অংশগ্রহণকারী ৪০টি পরিবার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এছাড়াও জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে পল্লবী কালশি এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ করেন। উক্ত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ এবং মিছিল করেন ভুক্তভোগী নারী , পুরুষ ও শিশুরা।
সন্ত্রাসীদের হামলাও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের ঘটনাস্থল সেকশন-১১, ব্লক-বি, রোড-১২, ৩ নম্বর ওয়াপদা বিল্ডিং ও বাইদ্দা ক্যাম্প সাংবাদিক আবাসিক এলাকার পশ্চিম পাশে, পল্লবী, মিরপুর, ঢাকা।