সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আল কায়েদা নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদন আমলে নিচ্ছে না সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: মিরপুর বিআরটিএ থেকে সরকারি গোপন তথ্য দালাল মনির ফাঁস করে দিচ্ছে, কর্মকর্তারা আতঙ্কে, সেবা গ্রহীতারা জিম্মি : ৭ সহকারী পুলিশ কমিশনার ও ৪৯ পুলিশ পরিদর্শক কে বাধ্যতামূলক অবসর: রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল: এনআইডির জন্মতারিখ ও নাম সংশোধনে নতুন সিদ্ধান্ত: বাংলাদেশ পুলিশের ২৩ কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি, বিপ্লব কুমারসহ বরখাস্ত ৬: খিলক্ষেত নামাপাড়ায় সাবেক সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভূমি দখলের অভিযোগ, বিপুল সম্পদের উৎস নিয়ে তদন্তের দাবি স্থানীয়দের: প্রাণনাশের হুমকি পেয়ে পুলিশের দ্বারস্থ সাবেক ক্রিকেটার সৌরভ গাঙ্গুলী: সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর গলায় রামদা ধরে বাড়িসহ সব সম্পত্তি লিখে নেওয়ার অভিযোগ!: জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় খল নায়ক ডন গ্ৰেফতার :

মিরপুর বিআরটিএ থেকে সরকারি গোপন তথ্য দালাল মনির ফাঁস করে দিচ্ছে, কর্মকর্তারা আতঙ্কে, সেবা গ্রহীতারা জিম্মি :

রিপোর্ট : বিশেষ প্রতিনিধি :

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) মিরপুর ঢাকা -মেট্রো-সার্কেল-১ এর কার্যালয় দালালচক্রের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। দালাল মনির হোসেন প্রায় ১৫ বছর যাবত মিরপুর বিআরটিএ’র বিভিন্ন বিভাগে দালালির কাজ করে আসছে । এতে করে বিআরটিএ’ র সরকারি গোপন তথ্য ফাঁস করে দিচ্ছে নামধারী মিডিয়ার “এস” কর্মীর কাছে । তার কাছ থেকে গোপন তথ্য পেয়ে মিডিয়ার “এসে” কর্মী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরকে বিভিন্নভাবে ভয় ভীতি দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এই সেই মনির কোন কর্মকর্তাদের কাছে কত টাকার চাইতে হবে সে বলে দেয় । সেই মোতাবেক মিডিয়া কর্মী সেই কর্মকর্তাদের কাছে বিভিন্ন ধরনের কস দেখি সুকৌশলে মোটা অংকের অর্থ দাবি করে বসেন । কে এই মনির হোসেন প্রায় ১৫ বছর যাবত বিআরটিএতে দালালির কাজ করে আসছে তার পিছনে সেলডাদাতা কে ? গত ১৫ বছরে বিআরটিএ দালালির কাজ করে অনেক অর্থ উপার্জন করেছে। তার নিজ গ্রাম এলাকায় অনেক সম্পত্তি গড়েছে অভিযোগে জানা গেছে। এই ১৫ বছরে বিআরটিএ কার্যালয়ে সরকারি কয়েক হাজার গোপন তথ্য ফাঁস করে দিয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে । এইসব গোপন তথ্য নামধারী মিডিয়াকর্মীর “এস” এর কাছে পাচার করে দিচ্ছে দালাল মনির হোসেন। মালিকানা বদল শাখাসহ বিভিন্ন বিভাগের দালালদের সাথে সখ্যতা তৈরি করে তাদের কাছ থেকে গোপন তথ্য নিয়ে ওই মিডিয়াকর্মীর কাছে পাচার করে।
দালাল মনির হোসেন এর মত আরো অনেক দালাল বছরে পর বছর বিআরটিএতে দালালির কাজ করে বিআরটিএর কর্মকর্তাদেরকে জিম্মি করে রেখে। এই দালাল মনির বিমান যোগে কক্সবাজার আসা যাওয়া করে। দালাল মনির হোসেন বিআরটিএ আগত সেবা গ্রহিতাদের কাছ থেকে
গাড়ির কাগজপত্র নিয়ে বলে সঠিক আছে কিনা স্যারদেরকে দেখাই । কিছুক্ষণ পরে এসে বলে সব কাগজ ঠিক নাই কিছু কাগজপত্রে সমস্যা আছে । কাগজপত্রে সমস্যা সবকিছু ঠিক করে দিবে টাকার বিনিময়ে । কাজের অনুপাতে নিম্নে ৫০০০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত দালাল মনির নেয় । এদিকে অর্থের বিনিময়ে বিআরটিএর সরকারি গোপন তথ্য ও কর্মকর্তাদের গোপন তথ্য ফাঁস করে দিচ্ছে নামধারী মিডিয়ার কর্মী “এস” এর কাছে দালাল মনির । এভাবেই দিনের পর দিন মাসের পর মাস বছরের পর বছর ধরে দালাল মনির তার অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। বিআরটিএর কর্মরত আনসার সদস্য ও প্রশাসনের লোকজনকে ম্যানেজ করেই দালাল মনির হোসেন একের পর এক তার অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। তার অপকর্মের ঘটনা বিআরটিএর সবাই জানে কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না এর কারণ কি সেবা গ্রহীতাদের একাধিক অভিযোগ । সে বিআরটিএ দালালির কাজ করে ঢাকার শহরে আলিশান ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে বসবাস করছে । বিআরটিএতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যখন অভিযান চালায় তখন দালাল মনির বিআরটিএ আশপাশে লুকিয়ে থাকে। তার সেলডাদাদারা তাৎক্ষণিকভাবে মনিরের সাথে যোগাযোগ করে সরে যেতে বলে। সেই জন্য তাদের সাথে অর্থের বিনিময় চলে। গাড়ির কাগজপত্র জমা দেয়ার পরেও কর্মকর্তারা সেই কাগজ অনলাইনে এন্ট্রি করার নামে আটকে রেখে গ্রাহকদেরকে হয়রানি করছেন। অভিযোগে জানা গেছে, মিরপুর বিআরটিএ’র কার্যালয়ে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয় গাড়ির নাম পরিবর্তন শাখায় ও ফিটনেস শাখায় । অন্য শাখা গুলোতে দালাল মনির সহ অন্যান্য দালালরা অবৈধভাবে অপকর্ম চালাচ্ছে । টাকা ছাড়া কোনো কাগজ অনলাইনে সাবমিট না করে মাসের পর মাস আটকে রাখে কর্মকর্তারা । শেষে তদবির করতে মালিকপক্ষ বিআরটিএ অফিসে এসে খোঁজ-খবর নিতে গেলে ভোগান্তি এড়াতে দালাল ধরতে বাধ্য হন। এই সুযোগে দালাল মনির বলে টাকা দিলে সব কাজ নিমিষেই হয়ে যায়। ভুক্তভোগীরা জানান, মিরপুর বিআরটিএতে গেলে প্রথমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি জমা নেয়া হয়। এরপর বলা হয়, আপনার কাজ শেষ মোবাইলে মেসেজ যাবে। মেসেজ পেলে ফিঙ্গার প্রিন্ট দেয়ার জন্য আসবেন। এজন্য সম্ভাব্য তারিখও দেয়া হয়। কিন্তু দিন পর দিন মাসের পর মাস মেসেজ আর আসে না। প্রকৃতপক্ষে কাগজপত্র আটকে রাখার কারণেই মেসেজ পাইনা সেবা গ্রহীতারা। সেই কাগজপত্র ঘুষের আশায় আটকে রাখে দালাল মনির। এরপর মনিরের নেতৃত্বে দালালদের মাধ্যমে টাকা নেয়ার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যে সব কাজ শেষ করে দেন। ভূক্তভোগীদের অভিযোগ ঢাকা বিভাগের পরিচালক শফিকুজ্জামান ভূঁইয়ার যোগসাজশ রয়েছে। তাদের কাছে থেকে শফিকুজ্জামান প্রতিদিন মোটা অঙ্কের টাকা পান। তা না হলে কর্মকর্তা ও দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না কেন ? সরেজমিনে মিরপুর বিআরটিএ’র কার্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, প্রধান ফটক থেকে শুরু করে সর্বত্রই দালালের দৌরাত্ম্য। একাধিক ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এখানে নিয়ম মেনে কাজ করতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। পাশাপাশি নানান কাগজ (ডকুমেন্টস) চান সংশ্লিষ্টরা। এসব ভোগান্তি এড়িয়ে দ্রুত সময়ে কাজ করতে দালাল মনির হোসেনের সহায়তা নেন তারা। সম্প্রতি বিআরটিএ কার্যালয়ে প্রবেশ করতেই এক দালাল বলেন, ‘লাইসেন্সের কাজ করবেন ভাই?’ এসময় এ কার্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে শুরু করে সর্বত্রই দালাল চক্রের সদস্যদের উপস্থিতি চোখে পড়ে। যদিও দালালের দৌরাত্ম্য বন্ধে দুদক ও সরকারি বিভিন্ন সংস্থা মাঝেমধ্যে অভিযান চালায়, তবে অভিযান শেষে আবারও ফিরে আসে সেই আগের চিত্র। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মিরপুর বিআরটিএ নিয়ম মেনে কাজ করতে দীর্ঘ সময় লাগে।
জানা গেছে, মিরপুরে বিআরটিএ- এর কার্যালয়ে প্রতিদিন সেবা নিতে আসেন হাজারও মানুষ। তবে এখানে স্বাভাবিক সেবা পেতে বড় বাধা দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেন, সম্পূর্ণরূপে ডিজিটালাইজেশনই অনলাইন করেও দালাল নির্মূলের কোন প্রকার সমাধান হচ্ছে না। তবে সেবাপ্রার্থীরা জানান, ভোগান্তি কমিয়ে দ্রুত সময়ে কাজ করাতে ও কাগজ সংক্রান্ত ঝামেলা সমাধানে দালাল মনির সহ চক্রের সহায়তা নেন তারা। কথা হয় ড্রাইভিং লাইসেন্স সংক্রান্ত কাজে আসা একজন গ্রাহকের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমি কিছু কাগজপত্র না আনায় একজন কর্মকর্তা জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া সম্ভব নয়। পরে দালালের মাধ্যমে তিনি ৫ হাজার টাকা দিয়ে সেই কাজ করিয়ে নিয়েছেন। এরকম শত শত গ্রাহক আছেন যারা টাকা দিয়ে অবৈধভাবে কাজ করিয়ে নিয়েছেন। অথচ যারা নিজে গিয়ে বৈধ কাগজপত্র জমা দিয়ে স্বচ্ছতার সাথে কাজ করাতে চান তারা কোনো সেবা পান না। ভুক্তভোগী জানান, তিনি কয়েক মাস আগে ব্যাক্তিগত গাড়ির নাম পরিবর্তনের প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করলে তাকে বলা হয় কয়েক দিনের মধ্যে গ্রাহকের জেলা অফিসে সেই কাগজপত্র পাঠানো হবে। এতে করে তাকে আর ঢাকায় আসতে হবে না। অথচ ৬ মাসের অধিক সময় অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও তিনি সেই কাগজ জেলা অফিসে পাঠানো হয়নি। এতে করে আগের মালিকের নামেই তার ট্যাক্স জমা হচ্ছে। আরেকজন মালিক জানান, তিনিও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করে টাকা জমা দেয়ার পর তাকে বলা হয়, কয়েক দিনের মধ্যেই মোবাইলে মেসেজ যাবে। কিন্তু প্রায় এক মাস অতিক্রান্ত হলেও সেই মেসেজ আসেনি। একজন দালাল তাকে জানিয়েছেন, আপনি আমাদের মাধ্যমে গেলে এমনটা হতো না। দালাল মনির হোসেন তার কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করে বলেছেন, সে বলে এই টাকা আমি একা খাবো না। একদম উচ্চ পর্যায় পর্যন্ত যাবে।
সেবাপ্রার্থী ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সাধারণত বিআরটিএ কার্যালয়ে লাইসেন্সের কাজে গেলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কাগজের ত্রুটি ধরা পড়ে। বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখিয়ে কাজ আটকে দেয়। পরীক্ষায় ছোট ভুলেও ফেল করানো হয়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে একেক ধাপের পরীক্ষা দিতে হয়। এতে নানান ভোগান্তির শিকার হতে হয়। অথচ টাকা দিলে কোনো ভোগান্তি ছাড়াই দালাল চক্রের সদস্যরা সহজেই এগুলো করে দেয়।
এ বিষয়ে কথা বলতে মিরপুর বিআরটিএ কার্যালয়ে ঢাকা বিভাগের পরিচালক শফিকুজ্জামানকে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা জন্য কল করলে তিনি সেই কল রিসিভ করেন নি। এইজন্য তার বক্তব্য নেয়ার সম্ভব হয়নি ।
অভিযোগ রয়েছে ঢাকা বিভাগের পরিচালক হিসাবে শফিকুজ্জামান বদলি হয়ে আসর পর থেকে মিরপুর বিআরটিএ- তে দুর্নীতি বেড়েছ। বিশেষ করে সিএনজি অটোরিকশার নিয়ে নানান কায়দায় তিনি ঘুষ বাণিজ্য করে থাকেন। অথচ একসময় ভালো মানুষ হিসাবে তার নাম শোনা যেত। বিআরটিএ-এর প্রধান কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, মিরপুরে কি হচ্ছে তা আমি জানি না বা আমার এখতিয়ারভূক্ত নয়। তবে মিরপুর বিআরটিএ সেবা গ্রহীতাদের অভিযোগের শেষ নেই । সমাধানের কোন আগ্রহ নেই সংশ্লিষ্ট পরিচালকসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের । বিআরটিএ চেয়ারম্যান সহ উচ্চপর্যায়ে কর্মকর্তাদের কাছে গ্রাহকদের আবেদন দালাল মনির হোসেন সহ সকল দালালদের নির্মূল করতে হবে। তাহলে গ্রাহকরা স্বস্তিতে সেবা গ্রহণ করতে পারবেন ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা