রিপোর্ট : শাহাজাহান মিয়া (শাকিল) :
গত ০৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ রাতে এসআরবি-৪ এবং এসআরবি-১ এর যৌথ আভিযানিক দল গাজীপুর জেলার টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন খা-পাড়ার একটি বাসায় অভিযান পরিচালনা করে চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত ৬ বছরের শিশু বায়জিদ অপহরণের ঘটনায় জড়িত চক্রের মূল হোতা তহুরা বানু লিপি (৪৫)’কে গ্রেফতার করে।
মামলার এজাহার এবং গ্রেফতারকৃত আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাবাদে জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ ঢাকা মহানগরীর রূপনগর থানাধীন দুয়ারীপাড়া এলাকা হতে ০৬ বছর বয়সী শিশু বায়জিদ তার নিজ বাসা থেকে অপহৃত হয়।
উক্ত ঘটনাটি বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারিত হয় এতে করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ঘটনার পরপরই এসআরবি-৪ এর আভিযানিক দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভিকটিম নিখোঁজের রহস্য উদঘাটন, অহরণকারীদেরকে গ্রেফতার এবং ভিকটিমকে উদ্ধারে ছায়াতদন্ত শুরু করে।
ইতিমধ্যে গতকাল ভিমটিম বায়জিদকে উদ্ধার করে তার পরিবারের নিকট হস্তান্তর করেছে এসআরবি-৪। এছাড়াও উক্ত অপহরণ চক্রের সাথে জড়িত আসামি কুসলুমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার তদন্তে জানা যায়, মূলত চক্রটি শিশুটিকে বিক্রির উদ্দেশ্যে অপহরণ করেছিল। চাঞ্চল্যকর অপহরণ মামলার তদন্তকালে ঘটনাস্থলের সিসি টিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায় অপহরণের পর শিশুটিকে প্রায় দেড় কিঃ মিঃ দুরে ফেয়ার নাসিং হোম ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়।
অতঃপর আরেকটি সিটি টিভি ফুটেজে লিপি ও নাসরিনকে শিশুটির হাত ধরে নিয়ে যেতে দেখা যায়। তদন্তে আরো জানা যায় তারা বিভিন্ন নিঃসন্তান দম্পতির নিকট শিশুটিকে বিক্রির চেষ্টা করেন কিন্ত তার বয়স বেশি হওয়ায় বিক্রি করতে পারেনি। লিপির পরামর্শে নাসরিন শিশুটিকে অন্যত্র নিয়ে চলে যায়। চক্রটির সদস্য নাসরিন এবং লিপি শিশুটিকে বিক্রয়ের চেষ্টা কালে এসআরবি ও পুলিশের তৎপরতা এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিউজ প্রকাশের পর তারা শিশুটিকে টঙ্গী এলাকার রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে তথ্য প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভিকটিমকে উদ্ধার এবং আসামির অবস্থান সনাক্ত করে এসআরবি-৪ এবং এসআরবি-১ এর যৌথ আভিযানিক দল গাজীপুর জেলার টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন খা-পাড়ার একটি বাসায় অভিযান পরিচালনা করে উক্ত ঘটনায় জড়িত অপহরণ চক্রের মূল হোতা তহুরা বানু লিপি (৪৫)’কে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে সংশ্লিষ্ট থানায় প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়াও এই চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে এসআরবি’র অভিযান অব্যাহত আছে।