রিপোর্ট :নিজস্ব প্রতিবেদক:
অনুমতি পুনর্বহাল হলেও পর্যটন মৌসুমের পুরো সময় জুড়ে যাত্রী পরিবহনের সুযোগ না পাওয়ায় কক্সবাজার-নুনিয়াছড়া-সেন্টমার্টিন রুটে চলাচলকারী জাহাজ কাজল-এর মালিকপক্ষ চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কক্সবাজার কস্তুরীঘাট নদীবন্দরের পোর্ট অফিসারের ভূমিকার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেছে জাহাজ কর্তৃপক্ষ।
জাহাজ মালিকপক্ষ জানায়, ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর নৌপরিবহন অধিদপ্তর (ডিজি শিপিং) এক পত্রের মাধ্যমে নিরাপত্তাজনিত কারণে কাজল জাহাজ নামের নৌযানটির কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন-নুনিয়াছা ড়া রুটে পর্যটক পরিবহনে সাময়িক স্থগিতাদেশ দেয়। পরে নৌযানটির প্রয়োজনীয় মেরামত ও সংস্কার শেষে চলাচলের অনুমতির জন্য জাহাজ কর্তৃপক্ষ আবেদন করে। সেই তদন্ত প্রতিবেদন সন্তোষজনক হওয়ায় চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি ডিজি শিপিং ওই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নৌযান চলাচলের অনুমতি দেয়। এর পর পাঁচ দিন পর, ২০ জানুয়ারি বিআইডব্লিউটিএও রুট পারমিটের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে এবং আনুপাতিক হারে যাত্রা সংখ্যা নির্ধারণ করে দেয়। তবে জাহাজ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এর আগেই বিআইডব্লিউটিএর প্রধান কার্যালয়ের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের এক চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে কক্সবাজার কস্তুরীঘাট নদীবন্দরের পোর্ট অফিসার মো. আব্দুল ওয়াকিল কাজল জাহাজে ইস্যু করা ট্রাভেল পাসের যাত্রীদের বিকল্প হিসেবে এমভি টেকনাফ নৌযানে পরিবহনের নির্দেশ দেন। সেই অনুযায়ী কাজল কর্তৃপক্ষ সব ট্রাভেল পাস হস্তান্তর করে।
জাহাজ মালিকপক্ষের দাবি, ১৫ জানুয়ারি স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হলেও ‘অনিবার্য কারণ’ দেখিয়ে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্তÍঅর্থাৎ পুরো পর্যটন মৌসুমের শেষ দিন পর্যন্তÍকাজল জাহাজের জন্য নতুন করে কোনো ট্রাভেল পাস ইস্যু বা যাত্রী পরিবহনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। এতে তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা হতাশায় পড়েন। এ বিষয়ে সমাধানের দাবিতে কাজল কর্তৃপক্ষ চলতি বছরের ২৫ ও ২৬ জানুয়ারি বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ঠ কর্তপক্ষ বরাবর দুটি আবেদন জমা দিলেও মৌসুম শেষ দিন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এরই মধ্যে পর্যটন মৌসুম শেষ হয়ে যাওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ আর পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন জাহাজ কর্তৃপক্ষ। তাছাড়া কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌরুটে প্রায় ২০ বছর ধরে চলমান সরকারি এল সি টি কাজল নৌযানে সুনামখুন্ন ও ওই যাত্রীগণ এর ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে।
জাহাজ কর্তৃপক্ষ আরও অভিযোগ করে, পোর্ট অফিসার মো. আব্দুল ওয়াকিলের প্ররোচনা ও পরোক্ষ প্রভাবের কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি কাজল জাহান নৌযানের মাস্টার নুরুল করিমকে সার্টিফিকেট বাতিলের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন, যা ক্ষমতার অপব্যবহারের শামিল বলে উল্লেখ করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিআইডব্লিউটিএ কক্সবাজার নদীবন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জাহাজ মালিকপক্ষ দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আর্থিক ক্ষতির ন্যায্য মীমাংসার দাবি জানিয়েছে।