রিপোর্ট : নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) চেয়ারম্যানের বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মোহাম্মদ রবিন নামের এক ব্যক্তি মিরপুর -১৩ নম্বর বিআরটিএ’র মালিকানা বদল শাখায় কর্মকর্তা মোহাম্মদ রঞ্জুর বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি -অপকর্মের বিরুদ্ধে । লিখিত অভিযোগটি গত ১৬ মার্চ মাসে বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কাছে দেন। কিন্তু ওই লিখিত অভিযোগে বিষয়ে এখন পর্যন্ত চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিভাগীয় বিআরটিএর পরিচালক মোহাম্মদ রঞ্জুর বিরুদ্ধে কোন প্রকার ব্যবস্থা নেননি। এমনকি তার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কোনো তদন্ত করছেন না। কারণটি খুবই রহস্যজনক বলে অভিযোগকারীর মন্তব্য। এমনকি একাধিক ভুক্তভোগীদেরও অভিযোগ এতদিন অতিবাহিত হল কি কারনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। অর্থের লোভে সবাই চুপচাপ রয়েছেন বলে রবিনের অভিযোগ । উল্লেখ্য, মোহাম্মদ রঞ্জুর দুর্নীতি ও বিভিন্ন অপকর্মের বিরুদ্ধে একাধিক পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে । তারি ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের অংশটুকু উল্লেখ করা হলো।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন অথরিটি (বিআরটিএ) মিরপুর- ১৩ নম্বরস্হ অফিসের মালিকানা বদল শাখার ১১৪/৬ নম্বর কাউন্টারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এবং ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ যেন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি ওই কাউন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রঞ্জুকে ঘিরে এসব অভিযোগ আরও জোরালোভাবে উঠে এসেছে। ওই কাউন্টারে যে কর্মকর্তা আসুক মনির সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই তাকে কাজ করতে হয় । তা না হলে ওই কর্মকর্তা সেই কাউন্টারে বেশিদিন থাকতে পারেন না। মনির হাফ ডজন সিন্ডিকেটের সদস্য নিয়ে পুরো বিআরটিএতে দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে । সিন্ডিকেটের সদস্যদের দিয়ে বিভিন্ন সেক্টরে দালালের কাজ করাছেন । জামাতসমর্থিত মোহাম্মদ রঞ্জু গত নভেম্বর মাসে মিরপুর- ১৩ নম্বরস্হ বিআরটিএ অফিসে যোগদান করার পর থেকে তার অপকর্ম শুরু করেন । একপর্যায়ে মনির সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করা জন্য দিদারসে কাজ করছেন ।
এর আগে মোহাম্মদ রঞ্জু অন্য যে বিআরটিএ’র অফিসে কাজ করতেন সেখানোও তিনি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করার কারণে শাস্তি মূলকভাবে তাকে বদলি করেন। বর্তমানে কর্মস্থলে এসেও একই ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। অভিযোগে জানা গেছে, বিআরটিএ’র উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের পরিচালক, উপ পরিচালক এবং ওই বিভাগের সহকারি পরিচালককে ম্যানেজ করেই তার অপকর্মের কর্মকাণ্ডের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, ভুক্তভোগী গাড়ির ক্রেতা ও বিক্রেতাদের অভিযোগ, মালিকানা বদলের মতো একটি সাধারণ সরকারি সেবা পেতেও এখন তাদের পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তির মধ্যে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিক থাকা এবং ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই উপস্থিত থাকার পরও নানা অজুহাতে ফাইল আটকে দেওয়া হচ্ছে। কখনো কাগজপত্রে ত্রুটি দেখানো হচ্ছে, আবার কখনো অপ্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাইয়ের নামে গ্রাহকদের দিনের পর দিন, মাসের পর মাস ঘুরতে বাধ্য করা হচ্ছে। তাদের অভিযোগে জানা গেছে, এই জটিলতার সুযোগ নিয়েই সক্রিয় হয়ে উঠেছে মনিরের সিন্ডিকেটের দালালচক্রটি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতি গাড়ির মালিকানা বদলের জন্য প্রায় ৩,৫০০ টাকা থেকে ৪৫,০০০ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে বাধ্য করেন গ্রাহকদেরকে । চাহিদা মত ঘুষের টাকা না দিলে সিন্ডিকেটের সদস্যরা বিভিন্ন ধরনের ওজুহাত দেখিয়ে তাদেরকে হারানি করতে থাকেন । সিন্ডিকেটের সদস্যদের চাহিদা মত অর্থ দিলেই দ্রুত কাজ সম্পন্ন হয়ে যায়। আর টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফাইল দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলিয়ে রাখা হয়। ফলে বাধ্য হয়েই অনেক সাধারণ মানুষ মনির সিন্ডিকেটের সদস্যদের (দালাল) দ্বারস্থ হচ্ছেন।
সরেজমিনে ১১৪/৬ নম্বর কাউন্টারের আশপাশে গিয়ে দেখা যায়, দালাল সিন্ডিকেটের কয়েকজন সদস্যকে প্রকাশ্যেই সরকারি চেয়ার-টেবিল ব্যবহার করে দালালির কার্যক্রম চালাচ্ছেন। তারা অনেকটা সরকারি কর্মচারীর মতো আচরণ করে গ্রাহকদের কাগজপত্র হাতে নিচ্ছেন, ফাইল যাচাই করছেন এবং দ্রুত কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছেন। মূলত গ্রাহকরা মনে করেন তারাই সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী । কিন্তু এক পর্যায়ে কাজে কর্মে কথাবার্তা বলে তারা বুঝতে পারেন ওরা হচ্ছে দালাল সিন্ডিকেটের সদস্য । ভুক্তভোগীদের অভিযোগে যাদের নাম উঠে এসেছে, তারা হলেন— দালাল সিন্ডিকেটের মূলহোতা মো. মনির হোসেন ওরফে মনির, মোহাম্মদ বাবু, মোহাম্মদ ইমরান, মোহাম্মদ আলী, মোহাম্মদ ইব্রাহীমসহ আরো অনেকেই। ভুক্তভোগীদের দাবি, এরা সরাসরি গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে এবং পরে সেই অর্থ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে পৌঁছে দেয়।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, এসব দালাল দিনের পর দিন, মাসর পর মাস , বছরে পর বছর ধরে অফিস কক্ষের ভেতরেই বসে কাজ করছে। তারা কখনো স্লিপ দিচ্ছে, কখনো ফাইল নিয়ে বিভিন্ন টেবিলে যাতায়াত করছে। অথচ পুরো বিষয়টি দৃশ্যমান থাকার পরও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রঞ্জু কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকায় রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তার কারণ হচ্ছে তিনি নিজেও ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করছেন । তিনি চাকরি শুরু থেকে অদ্যবধিতেও অবৈধভাবে মোটা অংকের অর্থ উপার্জন করে বিশাল সম্পদের মালিক হয়ে গেছেন ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মিরপুর বিআরটিএ অফিসে মালিকানা বদলের কাজ করতে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ আসেন। কিন্তু দালালচক্রের প্রভাবের কারণে অনেকেই নির্ধারিত নিয়মে সেবা পাচ্ছেন না। ফলে সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য হতে হচ্ছে।
সচেতন মহলের মতে, একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি (বিআরটিএ) প্রতিষ্ঠানে এভাবে প্রকাশ্যে দালালচক্র সক্রিয় থাকা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এতে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে সরকারি (বিআরটিএ) প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
ভুক্তভোগী অনেক ক্রেতা ও বিক্রেতা মনে করেন, অফিসের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করলে পুরো ঘটনার বাস্তব চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠবে। তাদের দাবি, দালালরা সরকারি আসবাবপত্র ব্যবহার করে লেনদেন করছে—এমন দৃশ্য সহজেই ফুটেজে পাওয়া যাবে।
এদিকে কর্মকর্তা মোহাম্মদ রঞ্জু ও দালাল সিন্ডিকেটের বিষয়টি নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ সদর কার্যালয়ে চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্বে) বরাবরে লিখিতভাবে মোহাম্মদ রবিন নামের একজন গত ১৬ মার্চ অভিযোগ দায়েরের করেন। তার লিখিত অভিযোগে ও সরেজমিনে গিয়ে এইসব তথ্য পাওয়া যায় । অভিযোগকারী আশা করছেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা জন্য।
ভুক্তভোগী ক্রেতা ও বিক্রেতারা আরও জানান, মিরপুর বিআরটিএ অফিসের মালিকানা বদল শাখায় এ ধরনের অনিয়ম চলতে থাকায় সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে। তাদের দাবি, অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা কর্মকর্তা মোহাম্মদ রঞ্জুকে দ্রুত ওই কাউন্টার থেকে প্রত্যাহার বা অন্যত্র বদলি করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। তাদের মতে, একজন কর্মকর্তাকে ঘিরে যখন বারবার ঘুষ ও দালালচক্রের অভিযোগ উঠে, তখন স্বচ্ছ তদন্তের স্বার্থেই তাকে ওই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। এতে তদন্ত প্রক্রিয়া আরও নিরপেক্ষ হবে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরবে।
তাই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং মিরপুর বিআরটিএ অফিসে দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। এইসব বিষয়ে চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্বে) তিনি অভিযোগকারীকে আশ্বাস দিয়েছেন বিষয়টি নিয়ে আমরা তদন্ত করব এবং তদন্তের পর আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে । পর্ব- ২