শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০৩:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রাজধানীর নিউমার্কেটসহ আশপাশের ফুটপাতের মুখোশধারী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে জনতার ক্ষোভ, চাঁদাবাজির অভিযোগে উত্তাল এলাকা: আনোয়ার উল্লাহ‍্য সোহেল ও সাধারণ সম্পাদককে ফুলের শুভেচ্ছা জানাই রুমের ও জাকির: অনলাইন ট্রেডিংয়ের আড়ালে বিশাল প্রতারণা মুগদায় ব্যবসায়ীর ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা নিয়ে উধাও প্রতারক চক্র: রবির ৩০তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত: সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত: দ্য লিটল জিমে স্টার অ্যাওয়ার্ড প্রতিযোগিতা সফলভাবে অনুষ্ঠিত: সকল প্রকার জ্বালানি তেলের দামে বড় ধাক্কা : জ্বালানি সংকটের বিকল্প সমাধান,ম্যাস গ্লোবাল সলিউশনসের চার মডেলের ই–বাইক বাজারে: মহাখালীতে ট্রাকের ধাক্কায় প্রাইভেট কার ক্ষতিগ্রস্ত , কেউ আহত হয়নি: আওয়ামী লীগ আমলের রাজনৈতিক হয়রানির মামলা প্রত্যাহারে উদ্যোগী সরকার: আইনমন্ত্রী:

অনলাইন ট্রেডিংয়ের আড়ালে বিশাল প্রতারণা মুগদায় ব্যবসায়ীর ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা নিয়ে উধাও প্রতারক চক্র:

রিপোর্ট : বিশেষ প্রতিবেদক:

রাজধানীর মুগদা এলাকায় অনলাইন ফরেক্স ট্রেডিং ও অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় ২ কোটি ৬০ লক্ষ ৫১ হাজার টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। মেসার্স আল মাদানী এন্টারপ্রাইজ-এর মালিক মো. জামাল হোসেন এই বিশাল অংকের অর্থ হারিয়ে এখন দিশেহারা।

রাজধানীর মুগদা থানায় ১৭ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে গত ১৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে মামলা দায়ের করা হয়, যার নম্বর ২০। এজাহারে আসামিদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ২২, ২৪ ও ২৭ ধারায় ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার মূল হোতা ১নং আসামি রাসেল (৪০), যিনি মিরপুর দারুস সালাম এলাকার বাসিন্দা। জামাল হোসেনের সাথে ব্যবসায়িক সূত্রে পূর্ব পরিচয় থাকায় সেই বিশ্বাসের সুযোগ নেন রাসেল। গত ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখে ইফতার পরবর্তী সময়ে রাসেল হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে জামাল হোসেনকে টিকমিলস৭ডটকম নামক একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগের প্রস্তাব দেন। তিনি দাবি করেন, এই বিজনেস প্যাকেজে ৫ দিনের জন্য ২ থেকে ৩ কোটি টাকা বিনিয়োগ করলে অবিশ্বাস্য পরিমাণ মুনাফা পাওয়া যাবে এবং এটি হাতছাড়া করা বড় ভুল হবে।

রাসেলের প্ররোচনায় প্রলুব্ধ হয়ে জামাল হোসেন তার ইসলামী ব্যাংক মতিঝিল শাখা থেকে আই-ব্যাংকিং ও আরটিজিএস (RTGS)-এর মাধ্যমে টাকা পাঠানো শুরু করেনঅভিযোগপত্রে দেখা যায়, ১৩ মার্চ আই-ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রথম কিস্তিতে ৬ লক্ষ ৭৭ হাজার ১৭১ টাকা পাঠানো হয়। ১৪ মার্চ তিনটি ভিন্ন অ্যাকাউন্টে (শামীম, ন্যাশনাল ফিস ফার্ম ও আবির হোসেন) মোট ২০ লক্ষ টাকা পাঠানো হয়। ১৬ মার্চ সিটি ব্যাংক খুলনার তিনটি অ্যাকাউন্টে আরটিজিএস-এর মাধ্যমে এক দিনেই ৭৫ লক্ষ টাকা এবং আরও একটি অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ ২৬ হাজার টাকা পাঠানো হয়। এছাড়া ১০ লক্ষ টাকা নগদ জমা দেওয়া হয়। ৩০ মার্চ ও ৩১ মার্চ মেহেদী হাসান, আবির ও নয়ন মোল্লা নামের ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্টে আরও প্রায় ৯৬ লক্ষ টাকা স্থানান্তর করা হয়। ৮ এপ্রিল সর্বশেষ ৩৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার একটি চেক প্রদান করা হয়। সব মিলিয়ে ১৩ মার্চ থেকে ৮ এপ্রিলের মধ্যে সর্বমোট ২,৬০,৫১,৫৭১/- (দুই কোটি ষাট লক্ষ একান্ন হাজার পাঁচশত একাত্তর) টাকা এই চক্রের হাতে তুলে দেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী।

জানা যায়, এটি কোনো একক ব্যক্তির কাজ নয়। অভিযোগের তালিকায় থাকা ১৭ জন আসামি এবং তাদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো একটি বিশাল জাল বিস্তার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে: ১. রাসেল, ২. এম এস সাজিস এন্টারপ্রাইজ, ৩. মো. শামিম, ৪. মেসার্স ন্যাশনাল ফিস ফার্ম, ৫. মো. আবির হোসেন, ৬. লায়লা বেগম, ৭. হাওলাদার এন্টারপ্রাইস, ৮. বাহার বিশ্বাস, ৯. মিথিলা, ১০. মেসার্স গালিব ট্রেডার্স, ১১. মেহেদী হাসান, ১২. আবির, ১৩. নয়ন মোল্লা, ১৪. জুয়েল আহম্মেদ, ১৫. মো. মনিরুল ইসলাম, ১৬. রাকিব শরীফ এবং ১৭. মেসার্স জুয়েল এন্টারপ্রাইস। এই চক্রটি ঢাকা, কুড়িগ্রাম এবং খুলনার বিভিন্ন ব্যাংকে (বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংক এবং সিটি ব্যাংক) একাধিক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে টাকাগুলো সরিয়ে নিয়েছে।

বিনিয়োগের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর গত ৯ এপ্রিল জামাল হোসেন তার আসল টাকা ও লভ্যাংশ ফেরত চান। তখন প্রধান আসামি রাসেল তাকে জানান, টাকা ফেরত পেতে হলে মোট অংকের আরও ১৮% টাকা ট্যাক্স বা প্রসেসিং ফি হিসেবে জমা দিতে হবে। এই পর্যায়ে জামাল হোসেন বুঝতে পারেন যে তিনি একটি গভীর ষড়যন্ত্র ও প্রতারণার শিকার হয়েছেন। পরবর্তীতে শুভাকাঙ্ক্ষীদের পরামর্শে তিনি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

ব্যবসায়ী জামাল হোসেন বলেন, আমি আমার সারা জীবনের সঞ্চয় এবং ব্যবসায়িক পুঁজি এই চক্রের হাতে তুলে দিয়েছি। তারা আমার সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে আমাকে পথে বসিয়ে দিয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে আমার টাকা উদ্ধার এবং এই ভয়ংকর প্রতারক চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

মুগদা থানা পুলিশ অভিযোগটি আমলে নিয়েছে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোর লেনদেন পর্যালোচনা করে এবং ডিজিটাল ফরেনসিকের মাধ্যমে অপরাধীদের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। অনলাইন ভিত্তিক এমন চটকদার বিজ্ঞাপনে বা অপরিচিত সাইটে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে সজাগ থাকার অনুরোধ জানিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা