বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০২:২২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার কৃষিবিদ ইসরাতুল আলম (কিরণ), পুলিশ বলছে তদন্ত চলছে: বাংলাদেশের রূপান্তরের স্থপতি: শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান: শ্রীপুরে ব্যবসায়ীর স্ত্রীর সঙ্গে জামায়াতের সাবেক নেতার পরকীয়া ও অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ স্বামীর: ঈদে ৭ দিনের ছুটি শেষে সোমবার খুলছে অফিস-আদালত, ব্যাংক-শেয়ারবাজার: শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন প্রধানমন্ত্রী: শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ: পবিত্র ঈদুল আজহা আজ: ৬০ কিলোমিটারে দীর্ঘ যানজট ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে: এসির গ্যাস লিকেজ হয়ে রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যু: জনশক্তি কর্মসংস্থান ব্যুরোর মাসুদ রানা যেভাবে পরিচালক পদ বাগালেন:

আইনজীবী আলিফ হত্যা : ভিডিও দেখে শনাক্ত ১৩ জন, গ্রেপ্তার ৭:

রিপোর্ট : নিজস্ব প্রতিবেদক :

 

সিসিটিভির ফুটেজ দেখে চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যাকাণ্ডে ১৩ জন কে শনাক্ত করা হয়েছে বলে পুলিশের সুত্রে জানা যায়।

তাদের মধ্য থেকে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো– রুমিত দাস, সুমিত দাস, নয়ন দাস, গগন দাস, বিশাল দাস, আমান দাস ও সনু মেথর।

ফুটেজে শনাক্ত অন্যরা হলো– বিকাশ দাস (১), অর্জুন দাস, বিকাশ দাস (২), বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চতুর্থ সেমিস্টারের ছাত্র শুভ কান্তি দাস, সরকারি হাজী মুহম্মদ মহসিন কলেজের কর্মচারী কৃষ্ণ দাস ও বুনজা মেথর। তাদের মধ্যে বিকাশ দাস (১) ও বুনজা মেথরকে হত্যাকাণ্ডের হোতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশের বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা। বিকাশ বান্ডেল সেবক কলোনির হরিজন সম্প্রদায়ের সর্দার জগন্নাথ দাসের ছেলে। এ ঘটনায় বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শুভ কান্তি দাসকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সিলভার রঙের হেলমেট, কমলা রঙের টি-শার্ট ও কালো প্যান্ট পরা রামদা হাতে এক যুবক এবং লাল হেলমেট, নীল রঙের টি-শার্ট ও জিন্স পরা বঁটি হাতে আরেক যুবক আইনজীবী আলিফকে কোপাচ্ছে। পুলিশ বলছে, প্রথমজন বিকাশ দাস; দ্বিতীয় ব্যক্তি বুনজা মেথর। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

তদন্তের সঙ্গে জড়িত পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, বিকাশ ও বুনজাকে ধারালো অস্ত্র হাতে দেখা গেছে। জগন্নাথের তিন ছেলেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। মহসিন কলেজের কর্মচারী কৃষ্ণও ঘটনাস্থলে ছিল। তবে বান্ডেল হরিজন সমাজ যুবকল্যাণ সংঘের সভাপতি জগন্নাথ দাস ঝর্ণা বলেছেন, ‘আমার ছেলেরা এবং সেবক কলোনির কেউ আইনজীবী হত্যার সঙ্গে জড়িত নন। ভিডিওতে যাদের দেখা যাচ্ছে, তারা সেখানে কী ঘটেছে তা উৎসুক জনতা হিসেবে দেখতে গিয়েছিলেন।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) মুখপাত্র উপকমিশনার রইছ উদ্দিন বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের হত্যা মামলায় আসামি করা হবে। জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ চলছে।

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গত সোমবার রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইসকনের বহিষ্কৃত নেতা ও সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম আদালতে চিন্ময়ের জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। পরে আইনজীবী আলিফকে কুপিয়ে হত্যা করে চিন্ময়ের অনুসারীরা। তবে গতকাল রাত পর্যন্ত আলিফ হত্যায় কোনো মামলা হয়নি।

 

চট্টগ্রাম আদালত ভবন থেকে কেন্দ্রীয় কারাগারের দূরত্ব মাত্র ৬০০ মিটার। পাহাড় চূড়ার আদালত ভবনে যেতে ও আসতে দুটি পথ রয়েছে। চারদিকে পাহাড়ঘেরা আদালত ভবনে নিরাপত্তা পরিকল্পনায় ঘাটতির জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দুষছে রাজনৈতিক দল ও স্থানীয়রা। আদালতের সংরক্ষিত এলাকায় কীভাবে চিন্ময় দাসের এত অনুসারী জড়ো হলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে গতকাল নগর পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) লিয়াকত আলীকে পিওএম শাখায় বদলি করা হয়েছে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন বন্দর বিভাগের উপকমিশনার শাকিলা সোলতানা।

নিরাপত্তায় ঘাটতি প্রসঙ্গে সিএমপি মুখপাত্র বলেন, আমাদের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় কোনো ঘাটতি ছিল না। কাগজে-কলমে ৩৫০ সদস্য ছাড়াও বাড়তি ফোর্স মোতায়েন এবং তল্লাশি চৌকি ছিল। আদালতের পাশাপাশি জেলা প্রশাসন, বিভাগীয় কমিশনার, রেজিস্ট্রি ভবনসহ নানা কার্যালয় রয়েছে। বিচারপ্রার্থী লোকজন যাতে হয়রানির শিকার না হন, তা বিবেচনায় রাখতে হয়েছে। রুটিন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে লিয়াকত আলীকে বদলি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা