শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আসছে স্মার্ট সংবাদ শ্রমিক আন্দোলনে অর্থায়ন এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগে ২০৪ জন ব্যক্তিও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ: সাংবাদিক ও মালিক গ্রেপ্তারে লাগবে আদালতের অনুমতি: সাইবার সুরক্ষা আইন পুনর্বিন্যাস: মিরপুরে পোশাকশ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ: ফের বাড়লো এলপিজির দাম : গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ: বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহবায়ক মিল্টন, সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর: তাহসিফের মৃত্যু, সেই তরুণী গ্রেপ্তার, দীপকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু: শ্রমিক বিক্ষোভ, আগুন: মেট্রোরেল বন্ধ! এক-দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীর পরীক্ষা এক মাসের মধ্যে : শিক্ষামন্ত্রী:

ইলিয়াস ‍আলীকে হত্যার পর মেজর জিয়াউল: ‘শেষ করে তাকে যমুনায় ফেলে দিয়ে এসেছি:

রিপোর্ট : নিজস্ব প্রতিবেদক :

 

২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতটি ছিল বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক অন্ধকার অধ্যায়। ওই রাতে সিলেট-২ আসনের প্রভাবশালী বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলী এবং তার গাড়িচালক আনসার আলীকে বনানী এলাকার রাস্তা থেকে অপহরণ করা হয়। এরপর থেকে দীর্ঘ এক দশক ধরে ইলিয়াস আলীর পরিবার সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ ও আবেদন জানালেও, তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো সঠিক তথ্য মেলেনি।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অনেক গুঞ্জন ও আলোচনা শুরু হয়, তবে সম্প্রতি একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া এক র‌্যাব সদস্যের স্বীকারোক্তিতে, যা পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

 

তৎকালীন শেরাটন হোটেলে (বর্তমানে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল) দলীয় সভা শেষে রাত ১১টার দিকে এম ইলিয়াস আলী তার গাড়িতে বাসায় ফিরছিলেন। ওই সময় তিনি শেরাটন হোটেল থেকে বের হওয়ার পরই অনুসরণ শুরু করেন র‌্যাব কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান ও তার সহকর্মীরা। মহাখালী পৌঁছানোর পর আরও একটি টিম এসে তাদের অনুসরণ করতে শুরু করে।

 

বনানী ২ নম্বর সড়কে ইলিয়াস আলীর গাড়ি পৌঁছানোর আগেই, সাউথ পয়েন্ট স্কুলের সামনে ইলিয়াস আলী এবং তার ড্রাইভার আনসার আলীকে অপহরণ করা হয়। র‌্যাব সদস্য সার্জেন্ট তাহেরুল ইসলামের ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিতে এ তথ্য উঠে এসেছে। তাহেরুল ইসলাম জানান, তিনি শেরাটন হোটেল থেকে ইলিয়াস আলীর গাড়ির গতিপথ পর্যবেক্ষণ করেন এবং মহাখালী পৌঁছানোর পর জিয়াউল আহসান তার টিমের সঙ্গে গাড়িটি থামিয়ে তাদের অপহরণ করেন।

 

জবানবন্দিতে আরও বলা হয়েছে, ইলিয়াস আলীকে অপহরণের পর তাকে হত্যা করা হয়। র‌্যাবের জিয়াউল আহসান, যিনি পরে মেজর জেনারেল হন, হত্যা পরবর্তী অফিসে ফিরে গিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন এবং জানান, “আজ বড় একটি অপারেশনে সাকসেসফুল হলাম।” তিনি দাবি করেছিলেন, ইলিয়াস আলীকে যমুনায় ফেলে দিয়ে এসেছেন।

 

এছাড়া, তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, এই হত্যার সঙ্গে আরও বেশ কিছু খুনের ঘটনা জড়িত ছিল। র‌্যাবের কিছু সদস্য, যারা খুনিচক্রের সঙ্গে জড়িত ছিল, তারা একদিনে ১১ জন, আরেকদিনে ১৩ জনকে হত্যা করেছে। এমনকি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও তদন্ত হচ্ছে, যেখানে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরো কিছু সেনা কর্মকর্তার নাম উঠে এসেছে।

 

গুম তদন্ত কমিশন ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, ইলিয়াস আলীকে অপহরণের পর হত্যার নির্দেশ শেখ হাসিনার সরকার থেকেই এসেছিল। জানা যায়, শেখ হাসিনা তখনকার এসএসএফ (স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স)-এর মহাপরিচালক লে. জেনারেল চৌধুরী হাসান সওরাওয়ার্দীকে ইলিয়াস আলীকে গুম করার নির্দেশ দেন। গুমের পর, ইলিয়াস আলীর স্ত্রীকে ডেকে এনে শেখ হাসিনা জানিয়ে দেন যে, “বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে অপহরণ করা হয়েছে” এবং এটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধের ফলস্বরূপ ঘটেছে।

 

এছাড়াও, ইলিয়াস আলীকে অপহরণের সঙ্গে জড়িত দুই সেনা সদস্যের নাম প্রকাশিত হয়েছে, যারা বর্তমানে সেনাবাহিনীতে রয়েছেন। তারা হলেন, ওয়ারেন্ট অফিসার জিয়া ও ইমরুল, যারা গুম ও খুন মিশনে অংশ নিতেন। গুম তদন্ত কমিশন ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তের পর সেনাবাহিনী তাদেরকে ক্লোজড এবং অন্তরীণ করেছে।

 

ইলিয়াস আলী গুম হওয়ার পর তার পরিবার দীর্ঘ এক যুগ ধরে বিভিন্ন দপ্তরে তদন্ত ও তথ্য চেয়েছে। তবে এখনো তার অবস্থান জানা যায়নি। বর্তমান সরকারের তরফ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার পরিবারের পক্ষ থেকে। ২০১২ সালের পর থেকে ইলিয়াস আলীর গুম রহস্য এখনও বাংলাদেশ রাজনীতির এক অমীমাংসিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

এখনো প্রশ্ন থেকেই যায়— এম ইলিয়াস আলী এবং তার গাড়িচালক আনসার আলী কোথায়? তাদের নিখোঁজ হওয়ার সত্য ও রহস্য কী?

 (সূত্র/আমার দেশ)


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা