মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বিআরটিএ’র মেট্রো সার্কেল-১, লাইসেন্স বোর্ডের দুর্নীতিবাজ আওয়ামী লীগের দোসর জিয়া বহাল তবিয়তে ! অঢেল সম্পদ গড়েছেন, দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অংকের টাকা : অর্ধ শতাধিক মানুষ কে ইউরোপ নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে টাকা নিয়ে উধাও প্রতারক শাওন এবং জাহাঙ্গীর: স্কুল ব্যাগ পেয়ে হাসিমুখে শ্রেণিকক্ষে পঞ্চপল্লীর প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা: গুলিস্থানের আন্তঃজেলা বাস কাউন্টার বন্ধ থাকায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দূর্ভোগ চরমে: মিরপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে যুবদল কর্মী খুন, আহত ২: বিএনপির চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ঘোষিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং কৃষকদলের পৃথক পৃথক আয়োজনে বৃক্ষরোপন ও বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে: রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ, দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার: রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করছেন: সিটি করপোরেশনের কর ও ফি জমা দিতে ঢাকা ব্যাংকের বুথ উদ্বোধন: সাতক্ষীরা-৪ জামায়াত এমপির অন্তরঙ্গ ভিডিও ভাইরাল, যা জানা গেল:

বিআরটিএ’র মেট্রো সার্কেল-১, লাইসেন্স বোর্ডের দুর্নীতিবাজ আওয়ামী লীগের দোসর জিয়া বহাল তবিয়তে ! অঢেল সম্পদ গড়েছেন, দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অংকের টাকা :

রিপোর্ট : নিজস্ব প্রতিবেদক :

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)ঢাকা মেট্রো – সার্কেল–১,এর অধীনে ড্রাইভিং পরীক্ষার লাইসেন্স বোর্ড জোয়ারসাহারাস্হ অফিসের সহকারী পরিচালক জিয়াউর রহমান জিয়া, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়া গড়ে উঠেছে । লাইসেন্স ইস্যুতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে তাদের বিরুদ্ধে । পরীক্ষায় দিতে আসা বেশির ভাগই অর্থের বিনিময়ে, দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে পরীক্ষা পাশ দেখানো হচ্ছে। আমার অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় তাদের সাথে যোগাযোগ নেই এমনকি অর্থ নেই তারাই ফেল হচ্ছেন পরীক্ষায়। হাতেগুণী কয়েকটা মানবিক দৃষ্টিতে পাশ করিয়ে দেন তারা । একই জায়গায় দীর্ঘ ছয় বছর যাবত সহকারি পরিচালক জিয়াউর রহমান জিয়া কর্মরত আছেন। সেই সুবাদে মটোরযান পরিদর্শক মোহাম্মদ শরফুদ্দিন, মটোরযান পরিদর্শক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম রফিকসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেন । এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আগত পরীক্ষার্থীদের ম্যানেজ করে থাকে দালালরা । দালালরা পরীক্ষার্থীদের কাছে পাশ করিয়ে দেওয়ার কথা বলে মোটা অংকের অর্থ দাবি করে । চাহিদা মত অর্থ দিলে ঠিকমতো পরীক্ষা না দিলেও পাশ। আবার যারা অর্থ দেন না তাদের ঠিকমতো পরীক্ষা হলেও ফেল দেখাই দেন। এভাবেই চলছে মিরপুর মেট্রো- সার্কেল – ১, ড্রাইভিং লাইসেন্স বোর্ডের অনিয়ম ও দুর্নীতির কর্মকাণ্ড । সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অভিযোগে জানা গেছে , লাইসেন্স বোর্ডে যেদিন পরীক্ষা হয় সেই দিন প্রায় ৭ থেকে ৮শ পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে আসেন। এর মধ্যে আড়াইশো থেকে ৩শ পরীক্ষার্থী দালালদের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে পাশ হয়ে যান। আর কিছু রয়েছেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের এবং বিআরটি হেড অফিসের ও কিছু শুভাকাঙ্ক্ষী তকবিদের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীরা পাশ করেন। জিয়াউর রহমান জিয়ার আস্থাভাজন দালালরা হলেন, মোহাম্মদ মিরাজ ও মোহাম্মদ হাসান, মো. রমজান হোসেন, সোহেল, বিহারী মানিক (কেরানি) , কালা মানিক , টিটু, দিদার ও নয়নের মাধ্যমে আগত পরীক্ষার্থীদের পাশ করিয়ে দেওয়ার কথা বলে প্রতি পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয় । এর মধ্যে প্রতি পরীক্ষার্থীকে পাশ করিয়ে দেওয়ার জন্য সহকারী পরিচালক জিয়া ২ থেকে ৩ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে । এমনকি তার সিন্ডিকেটের সদস্যাদের কেউ দিয়ে দালালদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করেন । আবার অনেক সময় জিয়ার গাড়ি চালক শাহাদাত হোসেন সুমন ক্যাশিয়ার হিসেবে উপরোক্ত দালালদের কাছ থেকে টাকা বুঝিয়ে নেন। ক্যাশিয়ার সুমন যে কয়টা টাকা পাবে সেই কয়টায় পাশ করাতে বলেন। এইসব টাকা লেনদেন করেন হোটেল রেডিন্সনে । এভাবেই চলে দিনের পর দিন মাসের পর মাস বছরে পর বছর তাদের দুর্নীতি অনিমের কার্যক্রম । ওইসব দালালদের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সরকারি পরিচালক জিয়াউর রহমান জিয়া, মটোরযান পরিদর্শক ও কর্মচারীরা। জিয়াউর রহমান জিয়া নবাবগঞ্জ দোহার নিজ গ্রামের বাড়ি হাওয়ায় একই উপজেলায় সাবেক মন্ত্রী নাজমুল হুদা সুপারিশের মাধ্যমে তিনি চাকরিটা পান। চাকরির সুবাদে বিভিন্ন জায়গায় কর্মরত ছিলেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএতেও কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি মিরপুর ঢাকা মেট্রো- সার্কেল- ১ , বিআরটিএ ড্রাইভিং লাইসেন্স বোর্ডে কর্মরত আছেন। অভিযোগ কারীর অভিযোগে জানা যায়, তার নিজ গ্রামে বিলাসবহুল বাড়ি, নামে বেনামী অনেক জমি ক্রয় করেছেন। যে গাড়ি ক্রয় করেছেন সেই গাড়ি দিয়ে যাওয়া আসা করেন । নামে বেনামে বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্টে মোটা অংকের অর্থ জমা রেখেছেন। উত্তরায় একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন । পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ বিআরটিএতে বিভিন্ন বিভাগে দুদক অভিযান চালালেও কিন্তু লাইসেন্স বোর্ড গুলোতে কেন অভিযান চালায় না এর কারণ কি? সিন্ডিকেটের মূলত জিয়াউর রহমান জিয়াকে দেখতে মনে হয় হাসিখুশি কত ভালো মানুষ তার ভিতরে এত দুর্নীতি অনিয়মের কর্মকান্ড লুকিয়ে আছে তা কাজেকর্মে বোঝা যাচ্ছে । সে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মন্ত্রী, এমপি, দলের নেতাকর্মীদেরকে ম্যানেজ করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে অটেল সম্পদের মালিক বনে গেছেন । তিনি অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে একাধিক সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে। আওয়ামী লীগের দোসর দুর্নীতিবাজ সরকারি পরিচালক জিয়া এখনো বিআরটিএতে বহাল তবিয়তে আছেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট বিভাগে অভিযোগ থাকলেও তার বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। একই জায়গায় ছয় বছর যাবত কর্মরত থাকায় বিআরটিএ প্রধান কার্যালয়ে থেকে বদলির ব্যাপারে জানতে পারলে জিয়া তাৎক্ষণিকভাবে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে বদলি ঠেকাইয়া দেন। জোয়াসাহারাস্হ লাইসেন্স বোর্ডে লাইসেন্স প্রার্থী ভুক্তভোগীদের অভিযোগের মাধ্যমে জানা যায়, বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন । তারা বলেন, বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো – সার্কেল-১. লাইসেন্স বোর্ডের জিয়ার সিন্ডিকেটের সদস্যরা দালালের মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে লাইসেন্সের প্রার্থীকে পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেন । আবার টাকা না দিলে লাইসেন্স প্রার্থী কে ফেল করিয়ে দেন । তারা কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেটের ভয় দেখিয়ে দালালের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেন । এভাবেই দালালদের মাধ্যমে একের পর এক অনিয়ম ও দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ব্যাপারে নাম না প্রকাশে অনিচ্ছুক ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রার্থীদের একাধিক অভিযোগ রয়েছে । বিআরটিএ’র ঢাকা মেট্রো সার্কেল -১ এর পরিচালক, উপপরিচালক, ও প্রধান কার্যালয় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই লাইসেন্স বোর্ডের একক ক্ষমতা দেখিয়ে জিয়া সিন্ডিকেটের নিয়োজিত উপরোক্ত দালালদের এক সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিবাজ ওই কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এইসব দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগে জানা গেছে। তিনি অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করে অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছেন। লাইসেন্স বোর্ডে পরীক্ষা ও ভাইভা পাস করার পর গাড়ি চালানোর সময় পাশ করলেও দালালদের ক্লিয়ারেন্স না থাকলে গাড়ি ট্রেনিং পরীক্ষায় ফেল করানো হয়। অনেক সময় দালালদের মাধ্যমে শুধু বায়োমেট্রিক্স পরীক্ষা দিয়ে পরীক্ষার্থীকে বাসায় চলে যেতে বলেন । অর্থ বিনিময়ে প্রার্থী হয়ে গেলেন পাশ। পরবর্তীতে তারা বাকি পরীক্ষা না নিয়েও পাশ করিয়ে দেন। এ বিষয়ে একাধিক প্রমাণ প্রতিবেদকের নিকট রয়েছে। জোয়াসাহারায় বিআরটিএ এখনো আওয়ামী লীগের সরকারের আমলে সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ অনেক আমলাদের সিন্ডিকেটের দোসরা বহাল তরিয়তে এখনো রয়েছেন। এমন অভিযোগ রয়েছে দালাল চক্ররা তার বাসায় গিয়ে তদবির করেন। তিনি আওয়ামী পরিবারের হয়েও তিনি এখনো বিআরটিএতে চাকুরিরত রয়েছেন । চাকুরির জীবনের শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত অনিয়ম ও দুর্নীতি মাধ্যমে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে । বিআরটিএ লাইসেন্স বোর্ডের প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ শতাধিক লাইসেন্স প্রাপ্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে , লাইসেন্স প্রার্থীরা বিভিন্নভাবে হয়রানি শিকার হচ্ছেন বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন। ভুক্তভোগী কামাল হোসেন, ওমর ফারুক, হাসানুজ্জামান, খালিদ আহমেদ ও শাহরিয়ার সহ আরো অনেকে সিন্ডিকেটের মূলহোতা জিয়াসহ অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করেন। অভিযোগকারীরা জানান, দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে টাকা লেনদেন করেন। যেকোনো লাইসেন্স প্রার্থী পরীক্ষা দিতে আসলে পরীক্ষার মাঝে তাদেরকে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ফেল করিয়ে দেয়। আবার দালালের মাধ্যমে টাকা দিলে পরে পরীক্ষা পাশ হয়ে যায়। গ্রাহক হয়রানি করে বিআরটিএ প্রতিষ্ঠানের ও সরকারের সুনাম ক্ষুন্ন করছেন তারা। সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের অর্থ । ভুক্তভোগীরা আরও বলেন, বিআরটিএ’র উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এইসব বিষয় নিয়ে কোন ধরনের মনিটরিং না করার কারণে একের পর এক দুর্নীতি করে যাচ্ছেন। এ ব্যাপারে সহকারী পরিচালক জিয়াউর রহমান জিয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করে সাংবাদিকের নাম শুনে বলেন আমি ব্যস্ত আছি পরে কথা বলব এরপর ফোন দিলে তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি। সেই কারণে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এই ব্যাপারে ঢাকা বিভাগীয় বিআরটিএ’র পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এই ধরনের অভিযোগ গ্রাহকরা মুখে মুখে বলেন। কিন্তু সুনির্দিষ্টভাবে কেউ লিখিতভাবে অভিযোগ দাখিল করেন না। আমরা লিখিতভাবে অভিযোগ পেলে তদন্তের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারপরও আমরা মনিটরিং করছি। পর্ব –১ ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা