মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রিজেন্টের আলোচিত সেই সাহেদ ফের গ্রেপ্তার: পাসপোর্টে যুক্ত হচ্ছে আবু সাঈদ-মুগ্ধ-ওয়াসিমের ছবি: ২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বল জিতলেন রদ্রি: আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন: ঢামেকে মাই হেলথ ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারের এক দালাল আটক: মেয়াদ উত্তীর্ণের ফাঁদে গ্রাহকের টাকা ও ইন্টারনেট ডাটা: মোবাইল অপারেটরদের বিরুদ্ধে বাড়ছে ক্ষোভ: হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা আইআরজিসির: সাবেক স্পিকার ও প্রবীণ রাজনীতিক ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই: সুইজারল্যান্ডকে ৩–১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা: কেপ ভার্দের অবিশ্বাস্য লড়াই রুখে দিয়ে নাটকীয় জয়ে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা:

সাবেক স্পিকার ও প্রবীণ রাজনীতিক ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই:

Oplus_131072

রিপোর্ট : নিজস্ব প্রতিবেদক :

 

বাংলাদেশের সাবেক স্পিকার, প্রবীণ আইনজীবী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকার ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রোববার (১২ জুলাই) ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

 

 

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় তিনি বেশ কিছুদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

 

 

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বাংলাদেশের আইন, রাজনীতি এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের অন্যতম পরিচিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তিনি অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন এবং ২৫ জানুয়ারি ২০০৯ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। স্পিকার হিসেবে সংসদীয় রীতি-নীতি অনুসরণ, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠা এবং সংসদ পরিচালনায় তার ভূমিকা ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।

 

২০০২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ. কিউ. এম. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত, ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করেন।

 

 

১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর তৎকালীন জলপাইগুড়ি জেলার (বর্তমান পঞ্চগড় জেলার) তেতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। তার বাবা ছিলেন মৌলভী আলী বক্স এবং মা বেগম ফখরুন্নেছা।

 

 

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে সম্মান ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর আইন বিষয়ে স্নাতক (এলএলবি) সম্পন্ন করেন। পরে ১৯৬১ সালে যুক্তরাজ্যে গিয়ে লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল ডিগ্রি অর্জন করেন। দেশে ফিরে তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইন বিষয়ে দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে আইন পেশা পরিচালনা করেন।

 

রাজনৈতিক জীবনের শুরু ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে হলেও পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠার পর তিনি দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং দীর্ঘদিন দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।

 

 

তিনি একাধিকবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিভিন্ন সময়ে ভূমি, শিক্ষা, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। রাজনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইন, সমুদ্র আইন, জাতিসংঘ এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে একাধিক গ্রন্থও রচনা করেন।

 

 

শিক্ষা বিস্তারেও তার উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। নিজ জেলা পঞ্চগড়ে তিনি ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার কলেজিয়েট ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন, যা স্থানীয় শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

 

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বেগম নুর আখতারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের এক মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছেন। তার দুই ছেলেই ব্যারিস্টার হিসেবে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশায় নিয়োজিত।

 

 

দীর্ঘ কর্মজীবনে আইন, রাজনীতি এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশে তার অবদান দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সহকর্মীরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা