রিপোর্ট : খেলার ডেস্ক :
ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬-এর কোয়ার্টার ফাইনালে রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ১-১ সমতায় শেষ হওয়া ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে গোল করে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। এর ফলও পেয়ে যায় দ্রুত। ম্যাচের ১০ মিনিটে লিওনেল মেসির নেওয়া কর্নার থেকে হেড করে দলকে এগিয়ে দেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। লিভারপুলের এই মিডফিল্ডারের গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আলবিসেলেস্তেরা।
গোল হজমের পর ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে সুইজারল্যান্ড। দ্বিতীয়ার্ধে তাদের প্রচেষ্টা সফল হয়। ড্যান এনডয়ে গোল করে সমতা ফেরালে ম্যাচে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে সুইজারল্যান্ড। ডান দিক থেকে থ্রু বল পেয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন ব্রিল এম্বোলো। তিনি বল বাড়িয়ে দেন বাঁ দিকে থাকা এনদোয়ের উদ্দেশ্যে। এনদোয়ে শট নিলেও লিসান্দ্রো মার্তিনেস দুর্দান্ত এক ব্লকে আর্জেন্টিনাকে রক্ষা করেন।
অবশ্য গোল হলেও সেটি বৈধ হতো না, কারণ তার আগেই এম্বোলোর অফসাইডের পতাকা তুলেছিলেন লাইন্সম্যান।
কিছুক্ষণ পর আবারও আক্রমণ। বাঁ দিক থেকে ভেসে আসা ক্রস দূরের পোস্টে হেড করেন এনদোয়ে। তবে বাজপাখির মতো ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বল আটকে দেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। এরপর বক্সের বাইরে প্রায় ৩০ মিটার দূর থেকে সুইস মিডফিল্ডারের এক জোরালো শট মার্তিনেসের সামনে ড্রপ খেয়ে দিক পাল্টালেও দক্ষতার সঙ্গে তা রুখে দেন এই গোলরক্ষক।
আক্রমণের ধারাবাহিকতায় ৬৭ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় সুইজারল্যান্ড। বাঁ দিকে রদ্রিগেজের সঙ্গে চমৎকার ওয়ান-টু খেলে বক্সে ঢুকে পড়েন এনদোয়ে। কোণাকুনি শটে পরাস্ত করেন মার্তিনেসকে। বল দূরের পোস্ট দিয়ে জালে জড়ালে উল্লাসে মাতে সুইস শিবির।
গোল করার ঠিক ৫ মিনিট পর বড় ধাক্কা খায় সুইজারল্যান্ড। ফাউলের অভিনয় করার দায়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড (লাল কার্ড) দেখে মাঠ ছাড়তে হয় সুইস ফরোয়ার্ড এম্বোলোর। এর আগে ৬৯ মিনিটে রেফারি লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখালেও, ভিএআর রিভিউতে দেখা যায় দুজনের মধ্যে কোনো সংস্পর্শই হয়নি। ফলে ফাউলের অভিনয় করায় শাস্তি পান এম্বোলো।