রিপোর্ট : শাহাজাহান মিয়া (শাকিল) :
দেশের মোবাইল অপারেটরগুলোর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে একটি অভিযোগ উঠে আসছে—নির্দিষ্ট সময় শেষে অব্যবহৃত ব্যালেন্স, কেনা ইন্টারনেট ডাটা বা বিভিন্ন প্যাকেজের সুবিধা বাতিল হয়ে যাচ্ছে। ফলে গ্রাহকদের দাবি, তারা যে সেবার জন্য অর্থ পরিশোধ করেছেন, তার পুরো সুবিধা ভোগ করতে পারছেন না।
অনেক গ্রাহক জানান, কয়েকদিন বা এক মাস মেয়াদের ইন্টারনেট প্যাকেজ কিনলেও পুরো ডাটা ব্যবহার করার আগেই মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। একইভাবে বিভিন্ন বোনাস ব্যালেন্স বা প্রচারণামূলক অফারের অর্থও নির্ধারিত সময় শেষে আর ব্যবহার করা যায় না। এতে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টদের মতে, একজন গ্রাহক যখন নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিয়ে একটি সেবা ক্রয় করেন, তখন সেই সেবা কী শর্তে শেষ হবে তা স্পষ্টভাবে জানানো এবং ন্যায্যভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি। শর্তাবলি জটিল বা অস্পষ্ট হলে গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, মোবাইল অপারেটরদের উচিত গ্রাহকদের জন্য আরও স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব নীতি গ্রহণ করা। যেমন—অব্যবহৃত ডাটা পরবর্তী প্যাকেজে বহনের (ডাটা রোলওভার) সুযোগ, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে একাধিক সতর্কবার্তা এবং সহজ ভাষায় শর্তাবলি জানানো।
অন্যদিকে, মোবাইল অপারেটরগুলো সাধারণত বলে থাকে যে তাদের সব প্যাকেজ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) অনুমোদিত নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হয় এবং প্রতিটি অফারের মেয়াদ ও শর্ত আগেই উল্লেখ থাকে।
এ বিষয়ে সচেতন নাগরিকদের দাবি, বিটিআরসি ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উচিত গ্রাহকদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা এবং প্রয়োজনে নীতিমালা পর্যালোচনা করে এমন ব্যবস্থা নেওয়া, যাতে গ্রাহকের অর্থের যথাযথ মূল্য নিশ্চিত হয়।
মোবাইল সেবা আজ দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। তাই গ্রাহকের আস্থা বজায় রাখতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং ন্যায্য সেবা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।